Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তার

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও চার বছর ধরে বেতন না দেয়ার অভিযোগে গতকাল সোমবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকা বসবাসকারী শাহেদুলকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ ও ১৩ সালের মাঝামাঝি কোন সময়ে শাহেদুল গৃহকর্মীটিকে ঘরের কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। নিউইয়র্কে তার বাসায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে তিনি বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশি ওই শ্রমিককে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার পরই তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন শাহেদুল।

এদিকে ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সবগুলো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১৫ বছরের জেল ও প্রায় চার বছরের ওভারটাইমসহ বেতন ও যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট শাহেদুলকে ৫০ হাজার ডলার বন্ড অথবা ২৫ হাজার ডলার নগদ জরিমানা করে পাসপোর্ট জমা দেবার আদেশ দিয়েছেন।

শাহেদুল ইসলাম আদালত থেকে জামিন পেলেও ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল সোমবার কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। জামিনের অর্থ পরিশোধ না করায় বাংলাদেশের একজন কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকার ঘটনাটি নিয়ে কমিউনিটিতে নানা রকম কানাঘুষা শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শাহেদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১১ সালে তিনি নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগ দেন।

জানা গেছে, প্রায় ১৩ মাস আগে শাহেদুল ইসলামের বাসার গৃহকর্মী রুহুল আমিন বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ শাহেদুল ইসলামকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

রুহুল আমিনের মত গৃহকর্মী পালিয়ে যাবার ঘটনা নিউইয়র্কে নতুন নয়। রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের কারণে এর আগেও বেশ কয়েকজন গৃহকর্মী বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হবার আশায় নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সর্বশেষ কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ এসেছিল। পরে ‘কূটনৈতিক সুবিধা’ গ্রহণ করে মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগদানের আগে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে প্রথমে তিনি ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসাবে যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হন শাহেদুল ইসলাম। গৃহকর্মী রুহুল আমিনকে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছিলেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার ও কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার জানান, নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে শাহেদুল ইসলাম সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সময়ে কনস্যুলেটের সঙ্গে বাংলাদেশিদের একটি সুসম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। এমনকি তিনি নিজেও অত্যন্ত সজ্জন হিসাবে পরিচিত।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের উদ্দেশে এভাবে গৃহকর্মী পালিয়ে গিয়ে কূটনীতিকদের বিপদে ফেলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এসব বিষয়গুলো যথাযথ অনুসন্ধানের প্রয়োজন বলে মনে করেন ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।

এদিকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতা এবং জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অনেক গৃহকর্মীই এদেশে বসবাসের লোভে নানানজনের কুপরামর্শে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে এ ধরনের মামলা দায়ের করছেন।

তিনি বলেন, জামিনের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় জামিন পেলেও একজন বাংলাদেশি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনাও দুঃখজনক।

জেলা অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন জানিয়েছেন, আমিন নামে ওই গৃহকর্মীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মারধর ও গালিগালাজ করা হতো। গৃহকর্মী আমিনকে দিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করানো হতো। কিন্তু তাকে কোনো মজুরি দেওয়া হতো না।

২০১৬ সালে শাহেদুলের বাসা থেকে আমিন পালিয়ে যায়। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অবশ্য এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শাহেদুলের বিরুদ্ধে আমিন অভিযোগ এনেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আমিনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...