Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / দোকলাম ইস্যুতে যেকোন মুহুর্তে চীন-ভারত যুদ্ধ?

দোকলাম ইস্যুতে যেকোন মুহুর্তে চীন-ভারত যুদ্ধ?

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিরোধপূর্ণ দোকলাম ইস্যুতে যেকোন মুহুর্তে বাধতে পারে চীন-ভারত যুদ্ধ। সহসাই ভারতে হামলা করবে চীন! ভারত সৈন্য প্রত্যাহার না করে নিলে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ছোট পরিসরে হামলা করতে পারে দেশটি। গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। এ খবরে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নড়ে চড়ে বসেছেন ঠিকই কিন্তু ঘাবড়ে যাননি একেবারে!

তারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন এই বলে যে- বেইজিং এবং নয়াদিল্লী কথার মারপ্যাঁচে নিজেদের ফাঁদে ফেলতে চাইছে ঠিকই কিন্তু যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নিশ্চয় চীন নিবে না। ছোটখাটো সামরিক অভিযানও তারা চালাবে বলে মনে হয় না। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে এমনটাই দাবি করেছেন ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্লোবাল টাইমস আজ একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে- অবশ্যই চীন যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ভারতের সঙ্গে বৈরি ভাব মিটে যাক এটাই কাম্য। কিন্তু ভারতীয় সৈন্যরা যদি অব্যাহতভাবে চীনা সীমান্ত অতিক্রম করে তবে বিষয়টি আর এমন থাকবে না। চীনের এ পত্রিকাটির মন্তব্যকে সরকারের মন্তব্য বলে মনে করা হয়।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পিপলস লিবারেশন আর্মি’র (পিএলএ) ৯০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সামরিক প্যারেডে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করেন- ‘যে কোনও অনুপ্রবেশকারী শক্তিকে পরাস্ত করার ক্ষমতা আমাদের সেনাবাহিনীর আছে’। এসময় তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ভারতকে ইঙ্গিত করে যে এ বক্তব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব প্রশমিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারত। অন্যদিকে চীনও বসে নেই। নেপাল, ভুটানের মতো রাষ্ট্রগুলোকে বগলদাবা করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। বেইজিং, নয়াদিল্লী, কাঠমান্ডু সবজায়গায় নেপালি দূতদের সঙ্গে সভা করেছে চীনা কূটনৈতিকরা। ভুটানও ভারতের বলয় ছেড়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে বলে আশংকা নয়াদিল্লীর।

দোকলাম উপত্যকা ভুটান ও চীন উভয়েই নিজেদের বলে দাবি করে। সিকিম-ভুটানের সীমান্তের জায়গাটি চীনে দংলাং নামে পরিচিত। উপত্যকায় চীন সড়ক তৈরির চেষ্টা করলে শুরু হয় এই অচলাবস্থার। এ রাস্তাটি তৈরি হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়ে যাবে চীন। এ রাস্তার অবস্থান মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে হওয়ায় উদ্বিগ্ন ভারত। কৌশলগতভাবে সড়কটি ভারতকে অরক্ষিত করবে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা। চীনের এ রাস্তা তৈরির বিরোধীতা করে ভুটান। ভুটানের দাবির পক্ষে সমর্থন জানায় ভারত। এতেই চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি। সীমান্তে দুই পক্ষই সৈন্য বাড়াতে থাকে। গত ৩০ জুন নয়াদিল্লী জানিয়েছিল, ভুটানের অনুরোধেই ভারত সেনা পাঠিয়েছে দোকলামে।

কিন্তু এ বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লীর চীনা দূতাবাস। সীমান্তে ভারতের সেনা মোতায়নে ভুটানের ভূমিকা নেই। ভারত নিজে উদ্যোগী হয়েই সেখানে সৈন্য মোতায়ন করেছে। একই বিষয়ে ভুটানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

ভারত এবং চীন উভয় পক্ষই একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে সীমান্তে। অব্যাহতভাবে চলছে কথার লড়াই। চীনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ভারত সৈন্য সরিয়ে নিক। ভারতেরও চাওয়া একই।

এর আগে ১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে বড় ধরণের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল শক্তিধর এ দুটি দেশ। যেখানে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। দোকলাম সীমান্ত বিরোধ সমস্যার শুরুতে তাই চীনা কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে দিয়ে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ ৭ অগাস্ট ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে চিনের সবচেয়ে বড় সেনা ছাউনি হুয়াইরোউতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূূচি আয়োজিত হয়। যেখানে পিপলস লিবারেশন আর্মির সিনিয়র কর্নেল লি লি’র সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিদের।

যদি ভারত দোকলাম সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে, তা হলে চীন কী করবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পিএলএ’র কিছু করা না করা অনেকটাই নির্ভর করছে ভারত কর্তৃক গৃহীত পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। যখনই কোনোকিছু প্রয়োজন মনে হবে, ঠিক তখনই আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপই গ্রহণ করব। ‘নিজেদের এলাকা’কে রক্ষা করতে আমাদের সেনা স্থির এবং দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...