Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ : ফখরুল

জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ : ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও অবৈধ। জিয়ার শাসনামলে বাকশাল থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিবন্ধন করেছিল।

আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে শুক্রবার জামালপুরে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে জিয়াউর রহমানকে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী’ বললেও মির্জা ফখরুলরা এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে কেউ যদি অবৈধ বলেন তাহলে তো রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অবৈধ।

তার মতে, বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে সব রাজনৈতিক দলসহ আওয়ামী লীগকেও ব্যান্ড (বাতিল) করা হয়।

ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে গণতন্ত্র ফেরান। তার শাসন আমলে বহু দলীয় রাজনীতির সূচনা হয়। সেই শাসন আমলের বিধি-বিধানকে অনুসরণ করে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় আওয়ামী লীগ। জিয়াউর রহমানের আমলের বহু দলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কখনও অবৈধ হতে পারে না।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এই রায়কে নিয়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। বিচার বিভাগের রায় নিয়ে এমন আচরণ আগে আমরা দেখিনি। তারা রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভকে নিজেদের অধীনে আনতে চায়। সবকিছু নিয়ে একদলীয় সরকার কায়েম করতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসন আমল অবৈধ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না; তিনি প্রশ্ন রাখেন, জিয়াউর রহমানের শাসন আমল অবৈধ হলে আওয়ামী লীগ বৈধ হয় কীভাবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আনার জন্য আমাদের কোনও ভূমিকা নেই, নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর দেওয়া এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে নির্বাচনে নিয়ে আসাটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

ফখরুল আরও বলেন, সরকার যা বলে, তা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। সব দলকে একসঙ্গে করে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা কমিশনের কাজ। কিন্তু বর্তমান কমিশন তাতে ব্যর্থ। এই কমিশন দলীয়। এই কমিশনের অধীনে কোনও নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

ইসির সঙ্গে সংলাপের কোনও মূল্য নেই বলেও দাবি করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, এই সংলাপের ভবিষ্যত কী হবে তিনিই (ইসি) বলেছেন। উনি শুনবেন, কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এটা কোনও সংলাপ না। এ ধরনের কোনও কথা হতে পারে না। এ কারণে বলেছি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষ নয়। তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

বন্যার্তদের পাশে সর্বপ্রথম বিএনপিই দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করে ফখরুল বলেন, বন্যায় আমরাই প্রথম কাজ শুরু করেছি। জাতীয়ভাবে শুরু করেছি। যতটা সম্ভব করেছি। সরকার কাজ না করে শুধু মুখের কথা বলছে। সরকার দুর্যোগ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলটির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর অনেকটা জোর করেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছে আওয়ামী লীগ। তাদের এই কর্মকাণ্ডে গোটা জাতি আজ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, তবে সরকার রায় নিয়ে যা করছে, তাতে গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও শাসনতন্ত্রে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...