এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত উদ্বুদ্ধকরণ গানের শিল্পী আব্দুল জব্বার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবব্রত বণিক তার চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘চিকিৎসায় আর সাড়া দিচ্ছে না কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পীর শরীর। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ খুব দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় রোগীর কাছের মানুষজনকে যেকোনো খবর শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে আবদুল জব্বারের বড় ছেলে মিথুন জব্বার বলেন,‘আমার বাবার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কোনোভাবেই উন্নতি হচ্ছে না। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আবদুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রোস্টেট গ্রন্থিসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া আবদুল জব্বার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে সারা কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্ধুদ্ধ করেছেন। তখন তিনি স্বাধীন বেতারে করেছেন অসংখ্য গান। ‘ও..রে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘পিচ ঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গান আব্দুল জব্বারের গাওয়া।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আব্দুল জব্বার পুরো ভারতে বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত থেকে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। আব্দুল জব্বার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি গানের তালিকায় স্থান লাভ করেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

