ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা
Posted by: News Desk
October 3, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নম্বর কোর্টের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে কার্যক্রম শুরু হয়।
বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
বিচার কার্যক্রমের শুরুতে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশে করে বলেন, আজকে কোর্ট চলবে ১০টা পর্যন্ত।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আজ মঙ্গলবার থেকে ছুটিতে যাওয়ায় আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আগামী ৩ অক্টোবর হতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেছেন এবং মাননীয় প্রধান বিচারপতি অসুস্থতাজনিত ছুটি ভোগকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক মাননীয় বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করিয়াছেন।’
৩৯ দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে উচ্চ আদালতে শুরু হচ্ছে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম। প্রথা অনুযায়ী, অবকাশ শেষে প্রধান বিচারপতি, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। তবে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আজ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিচারপতি ও আইনজীবীরা বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বয়স বিচারে বিধি অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই এক মাসের ছুটিতে গেলেন তিনি। এর আগে গত ৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও জাপান সফরে যাওয়ার জন্য ১৬ দিনের ছুটি নেন প্রধান বিচারপতি। তখনও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এসকে সিনহা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে তার মত পার্থক্য দেখা দেয়। নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণ বিধির গেজেট, হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যও দেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায়। ওই মূল রায়টি লেখেন প্রধান বিচারপতি। তিনি রায়ে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র-সমাজ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, সংসদ সামরিক শাসনসহ নানা বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠে রায়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করেছেন। রায়ের পর প্রধান বিচারপতি সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়েন। এ সময় প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
জাতীয় সংসদেও প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন এমপিরা। একই সঙ্গে এই দাবিও ওঠে যে, চলতি অবকাশের পূর্বে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা 2017-10-03