Don't Miss
Home / আইন আদালত / কে হচ্ছেন নতুন প্রধান বিচারপতি

কে হচ্ছেন নতুন প্রধান বিচারপতি

এমএনএ রিপোর্ট : দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে কে নিয়োগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে সকলেরই কৌতূহল রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকেই দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, না আপিল বিভাগের অন্য কাউকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে- তা নিয়ে  শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। ।
আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছাড়াও প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য আরও দু’জন আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে কোনো বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দিতে পারেন। এ কারণে পুরো বিষয়টি এখন রাষ্ট্রপতির ওপর নির্ভর করছে।
আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার প্রথা যেমন রয়েছে তেমনি তাঁকে ডিঙিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়ারও একাধিক নজির আছে।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়া আছে। তবে সংবিধানে যাই থাকুক না কেন দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার যাঁকে চায় তাঁকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাবেন।
বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনিই প্রধান বিচারপতি থাকছেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন। আজকালের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে যাকে নিয়োগ দেবেন, তার নাম উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, বিধি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির যে কোনো চিঠি বা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাওয়ার কথা। কারণ, একই সঙ্গে ওই চিঠি বা আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তাব ও আইনি বিধান আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্নিষ্ট দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেন। প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানোর ফলে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত নন। যে কারণে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপতি। আর এসব প্রক্রিয়ার কারণে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি দুই-একদিন বিলম্ব হতে পারে।

জানতে চাইলে আইন সচিব আবু সালেহ মো. শেখ জহিরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। জানানো হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যবাধকতা নয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির পদটি সাংবিধানিক পদ। এ কারণে ওই পদটি বেশিদিন শূন্য রাখার সুযোগ নেই।
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধান বিচারপতি পদে সাধারণত আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। নিকট অতীতে এর ব্যত্যয় করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবার এর ব্যত্যয় হবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
এ ছাড়া সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে কোনো বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। ’ প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলে বা কোনো কারণে অপসারিত হলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।
বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের পর এখন আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। তাঁরা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা অবসরে যাবেন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দায় ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন।
উল্লেখ্য, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন (সুপারসিড) করে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আগেও একাধিকবার হয়েছে। সর্বশেষ, ২০১১ সালে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলে আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি ছুটিতে যান। তারা হলেন বিচারপতি আবদুল মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান।
২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর দেশের ১৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন। এরপর আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করীমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামকে দেশের ১৭তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম ৪৭ দিন দায়িত্ব পালন করার পর ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। এরপর ১৮তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করীমকে। তিনি অবসরে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম এ মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরও আগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এম এম রুহুল আমিনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। তারও আগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি কে এম হাসান ও বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনকে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রুহুল আমিনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার কথা উঠেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেননি।
রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পরেও প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ পড়াননি এমন ঘটনাও ঘটেছে। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বাবু ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়ার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম তাদের শপথ পড়াননি। বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম অবসরে যাওয়ার পর পরবর্তী প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ওই দুই বিচারপতিকে শপথ পাঠ করান।
x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...