মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক আর নেই
Posted by: News Desk
December 16, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম এমএনএকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মো. শাহ আলম বলেন, মন্ত্রী ছায়েদুল হক দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, ইউরিন ইনফেকশন ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। তিনি আগস্ট মাস থেকে প্রোস্টেট গ্লাণ্ডের সংক্রমণে ভুগছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউ-এর ১৬ নম্বর বেডে লাইফ-সাপোর্টে ছিলেন। কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জির তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র পুত্র ডা. এ এস এম রায়হানুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এদিকে সদ্য প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের জানাজা ও দাফন আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।
আজ শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছায়েদুল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হেলিকপ্টারে তাকে তার নির্বাচনী এলাকা নাসিরনগরে নেওয়ার পর সেখানে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১১টায় দ্বিতীয় জানাজা এবং তার গ্রামের বাড়ি পূর্বভাগে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে ছায়েদুল হককে দাফন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ছায়েদুল হক। তিনি ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সরকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার নিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন।
ছায়েদুল হক ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ১৯৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো নাসিরনগর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। তার সময়েই মৎস্য ও ছাগল-উৎপাদনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। তার প্রচেষ্টায় ইলিশ উৎপাদনেও ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দেশের জনগণ অভাবনীয় স্বল্পমূল্যে ইলিশ খেতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নাসিরনগরের ব্যাপক উন্নয়নে স্মরণীয় অবদান রেখেছেন।
প্রাণি সম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক মৎস্য আর নেই 2017-12-16