টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাস সেরা স্কোর
Posted by: News Desk
February 15, 2018
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটা ইতিহাস সেরা স্কোর।
এর আগে ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ করেছিল ৫ উইকেটে ১৯০। শ্রীলংকার বিপক্ষে টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ পাল্লেকেলেতে ২০১৩ সালে করা ৭ উইকেটে ১৮১ রান।
শুধু রানের দিক থেকেই নয়! ভেন্যুর দিক থেকেও আজ বৃহস্পতিবার মিরপুরে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের স্কোর গড়েন মাহমুদউল্লাহরা।
আজকের আগে টি-টোয়েন্টিতে শেরেবাংলায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের স্কোর ছিল ১৮৯/৯। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে এই স্কোর গড়ে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৯৩ রান টপকাতে ব্যাট করতে নেমেছে শ্রীলংকা। ১২ ওভার শেষে সফরকারীরা ৪ উইকেটে করেছে ১৩০ রান।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে সফরকারী শ্রীলংকাকে ১৯৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারে আগের সেরা ৫০ ছাড়িয়ে মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। আর ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি তুলে সৌম্য ফেরেন ৫১ রানে। এছাড়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ করেন ৪৩ রান।
মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। অভিষিক্ত জাকির হাসান চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ফেরার আগে স্কোরবোর্ডে উঠে ৪৯ রান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ১১তম ওভারে তিন বলের মধ্যে ফিরে যান সৌম্য ও আরেক অভিষিক্ত আফিফ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জাকির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকার। হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যান সৌম্য। ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং টেস্ট সিরিজে দলে জায়গা না পাওয়া এ ওপেনার টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরেই ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেন। তার কল্যাণে উদ্বোধনীতে ২৪ বলে ৪৯ রান সংগ্রহ বাংলাদেশের।
তবে তামিম ইকবালের কাঁধের ইনজুরির কারণে ভাগ্য খুলে যাওয়া জাকির হোসেন নিজের অভিষেক ম্যাচকে ঝলমলে করে রাখতে পারেননি। দানুস্কা গুনতিলকার শিকারে ধরা পরার আগে ৯ বলে ১০ রান করতে পেরেছেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
জাকির হাসান ফিরে গেলেও উইকেটে তাণ্ডব চালিয়ে যান সৌম্য। দ্বিতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়তেই বিপদে পড়ে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। জীবন মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৩২ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫১ রান করেন সৌম্য। তার বিদায়ের পর চলতি ম্যাচে অভিষেক হওয়া আফিফ হোসেন উইকেটে নামতে না নামতেই মেন্ডিসের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশ দলকে পথ দেখান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ বলে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তারা। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেয়ার পথে থাকা রিয়াদ থেমে যান ৪৩ রানে। তার ইনিংসটি ৩১ বলে ২ চার ও সমান ছক্কায় সাজানো।
রিয়াদের বিদায়ের পর সাব্বির রহমান রুম্মনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মুশফিক। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার তিন বল আগে থিসেরা পেরেরার বলে সুইফ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন রুম্মন। তবেইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে যাওয়া মুশফিকঅপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৬৬ রান করে।
বাংলাদেশ দল : সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন, সুস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, আফিফ হোসেন, নাজমুল হক অপু, আরিফুল হক।
শ্রীলংকা একাদশ : দিনেশ চান্ডিমাল (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, নিরোশান ডিকবেলা, কুশল মেন্ডিস, আকিলা ধনঞ্জয়া, ইসুরু উদানা, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, জিহান মেন্ডিস ও সিহান মাদুশঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৯৩/৫ (জাকির ১০, সৌম্য ৫১, মুশফিক ৬৬*, মাহমুদউল্লাহ ৪৩, সাব্বির ১, আরিফুল ১*; মাদুশাঙ্কা ০/৩৯, গুনাথিলাকা ১/১৬, উদানা ১/৪৫, থিসারা ১/৩৬, ধনঞ্জয়া ০/৩২, জীবন ২/২১)
সেরা ইতিহাস স্কোর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের 2018-02-15