Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / শিক্ষা প্রশাসনের আলোচিত ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি

শিক্ষা প্রশাসনের আলোচিত ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি

এমএনএ রিপোর্ট : শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বছরের পর বছর ধরে চাকরি করা এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বদলি শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার এ ধরনের ৩২ জন কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন এলাকার কলেজে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, শিগগিরই আরও কয়েকজনকে বদলি করা হবে। সরকারি নিয়ম হলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দপ্তরে একনাগাড়ে তিন বছরের বেশি রাখা যাবে না। গত বছরের ১০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা করে নীতিমালা জারি করে বলেছিল, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখন থেকে একই দপ্তর বা সংস্থায় একনাগাড়ে তিন বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, কোনো কর্মকর্তাকে একটি দপ্তর থেকে অন্য কোনো দপ্তর বা সংস্থায় বদলিও করা যাবে না। কিন্তু এই নীতিমালা বাস্তবায়ন না করায় সমালোচনা ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব এবং উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি অভিযোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে। মূলত এই ভাবমূর্তি রক্ষায় এখন অভিযোগ থাকা এবং একই পদে দীর্ঘদিন থাকা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরই আলোকে আজ ৩২ জনকে বদলি করা হলো। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক, উপপরিচালক, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ ও স্কুল পরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
এই কর্মকর্তাদের মধ্যে সাতজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন, বিদ্যালয় পরিদর্শক এ টি এম মঈনুল হোসেন, উপপরিচালক ফজলে এলাহী, উপসচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম, উপ–কলেজ পরিদর্শক ও শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ এবং উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায়।
বদলি হওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা হলেন তদারক ও মূল্যায়ন শাখার পরিচালক মো. সেলিম, উপপরিচালক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার, শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকি, খ ম রাশেদুল হাসান, সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
বাকিরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত। এসব কর্মকর্তার মধ্যে কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে রয়েছেন। কেউ কেউ প্রভাষক থেকে অধ্যাপক হয়েছেন একই সংস্থায় থেকে। কেউ কেউ আবার পদোন্নতি পেলেও শুধু এখানে থাকার জন্য নিচের স্তরে চাকরি করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার দাপটসহ নানা অভিযোগে আলোচিত ছিলেন ওই ৩০ কর্মকর্তারা। এরমধ্যে যাদেরকে ঢাকার বাইরে বদলি হরা হয়েছে তারা হলেন-
মাউশি পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) ড. মো. সেলিমকে মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ করে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মো. আশফাকুশ সালেহীনকে যশোরের সরকারি এমএম কলেজে বদলি করা হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এটিএম মঈনুল হোসেনকে খুলনা সরকারি কলেজে, কলেজ উপপরিদর্শক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ রাজশাহী কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মাউশির উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) মো. ফজলে এলাহীকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, উপপরিচালক (কলেজ-২) মো. মেসবাউদ্দিনকে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ, উপপরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) এসমএম কামাল উদ্দিন হায়দারকে মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে, উপপরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকিকে ভোলা সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মাউশি সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪) জাকির হোসেনকে ফেনীর জিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, উপপরিচারক (প্রশিক্ষণ) খ ম রাশেদুল হাসানকে যশোর সরকারি এমএম কলেজ, উপসচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) মোহাম্মদ নাজমুল হককে শরীয়তপুরের সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মাউশির গবেষণা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক) মো. হাবিবুল্লাহকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম বরিশালের সরকারি বিএম কলেজ, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায়কে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র সরকারি কলেজ, সহকারী পরিচালক (কলেজ-২) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।
এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ মনিরা বেগমকে ফেনীর জিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, বিশেষজ্ঞ (শিক্ষাক্রম উইং মাধ্যমিক) শাহীনারা বেগমকে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে, সম্পাদক দিলরুবা আহমেদকে নারায়ণগঞ্জ তেলারাম সরকারি কলেজ, বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক) ফাতেমা নাসিমা আক্তারকে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ, গবেষণা কর্মকর্তা মারুফা বেগমকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, গবেষণা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শাহ আলমকে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ, উৎপাদন নিয়ন্ত্রক আব্দুল মজিদকে রাজশাহী কলেজে বদলি করা হয়।
ঢাকার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেনকে চট্টগ্রামের সরকারি টিটি কলেজে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক টিএম জাকির হোসেনকে নওগাঁর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের উপাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অমল কুমার বিশ্বাসকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজে বদলি করা হয়।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রাকিবুল ইসলামকে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ইলিয়াস উদ্দিন আহম্মদকে নওগাঁ সরকারি কলেজ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে পাঠানো হয়।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবুল বাশার তালুকদারকে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে এবং বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের দর্শনের অধ্যাপক মো. হেমায়েত উদ্দিনকে বগুড়ার সরকারি আযিজুল হক কলেজে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...