Don't Miss
Home / সারাদেশ / রংপুর সিটির প্রথম মেয়র ঝন্টু আর নেই

রংপুর সিটির প্রথম মেয়র ঝন্টু আর নেই

এমএনএ রিপোর্ট : মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ২৬ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেলেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (৬৫)।
আজ রবিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হাসপাতালে ঝন্টুর সাথে থাকা তার ছোট বোন পেলিন আফরোজ বেবি ও ছেলে রিয়াজ আহমেদ হিমন জানান, আজ রবিবার ঝন্টু লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার লাশ জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। সেখান থেকে তাকে রংপুরে আনা হবে।
রংপুরে জানাজা শেষে নুরপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে ঝন্টুকে দাফন করা হবে। তবে কখন তাকে রংপুরে আনা হবে ও কোন সময় জানাজা হবে তা তারা জানাতে পারেননি।
তারা আরও জানান, গত ৩১ জানুয়ারি রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়ার বাসভবনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে রংপুরের সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঝন্টুকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে দেখতে আসেন।
ল্যাবএইডে অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ঝন্টুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি এক শোক বার্তায় সরফুদ্দীন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর পৌরসভার সাবেক এই মেয়রের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এদিকে পৃথক পৃথক শোক বার্তায় সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি এবং সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু।
কিন্তু গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন ঝন্টু নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬২ হাজার ৪০০ ভোট পান।
নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ঝন্টু মনোকষ্টে ভুগছিলেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সরফুদ্দিন ঝন্টু জাতীয় পার্টি থেকে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়ায় তার বাড়ি। ঝন্টুর বাবার নাম মৃত মহিউদ্দিন আহমেদ। তার দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ঝন্টুর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার গুপ্তপাড়ার বাসভবনে ভীড় করতে শুরু করেন।
x

Check Also

জুন মাসের মধ্যেই সারা দেশে হেলথ কার্ড প্রদান কার্যক্রম চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদী প্রতিনিধি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, নতুন বছরে দেশকে ...