প্রধানমন্ত্রীর এখন ভোট চাওয়া বেআইনি : মওদুদ
Posted by: News Desk
March 3, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : সরকারি খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যেভাবে ভোট চাইছেন, তা আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে কারাগারে আটক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে এই সভার আয়াজন করা হয়।
মওদুদ বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী খুলনা যাবেন। উন্নয়নের কথা বলে ভোট চাইবেন, নৌকায় ভোট চাইবেন। তিনি সরকারি খরচে যাবেন, হেলিকপ্টারে যাবেন এবং সমস্ত খরচ বহন করবে সরকার।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, যেহেতু তারা জানেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পরে উন্নয়নের কোনো ওয়াদা করতে পারবেন না, সেজন্য এখন সেই সুযোগ নিচ্ছেন তারা। এটা অনৈতিক ও বেআইনি।
এ সময় বিএনপি সমাবেশের সুযোগ পাচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে গৃহবন্দি করে রাখা, জেলখানায় রাখা, কোনো সভা-সমাবেশ বা ঘরোয়া বৈঠকও করতে না দেওয়া- এটা চলতে পারে না। মানুষ আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে।
মওদুদ বলেন, দেশের মানুষ আর একবার ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের কোনো খবর থাকবে না। তারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে।
খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না হতে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, আপনারা সরকারি খরচে নৌকায় ভোট চাইবেন আর আমাদের নেত্রীকে কারাগারে রাখবেন তা হবে না। সভা সমাবেশে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন। নির্বাচন আইনে আছে তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দল ও নেতা কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না। তাই শেখ হাসিনা এখন জনসভা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।
-

-
আজ শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লেবার পার্টির আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মওদুদ আহমদ।
এ ক্ষেত্রে ইসির ‘নিষ্ক্রিয়’ ভুমিকার সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন বলছে, তাদের কিছু করার নেই। তাদের (ইসি) তো শক্তি নাই, সাহস নাই। তারা তো নিরপেক্ষ না। তাহলে তো তারা সরকারের একটি তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠান। সেজন্য তারা এই কথা বলেন।
আজকে যদি ভারতে হত, তাহলে ভারতের চিফ ইলেকশন কমিশনার ব্যবস্থা নিতেন। ইসিকে বলব, হয় তাদেরকে বন্ধ করেন, না হয় আমাদেরও অনুমতি দেন, যাতে আমরাও ধানের শীষে ভোট চাইতে পারি।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকটু সংযত হলে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়া যেত। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যেত। তার সামনে সুযোগ ছিল বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কপালে যে কালিমা লেপন হয়েছে তা মুছে ফেলার। কিন্তু তিনিও সেটা না করে করলেন উল্টোটা। তিনি চাইলে পারতেন মানুষের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র সুসংহত করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা না করে করলেন একদলীয় শাসন কায়েম।
শিক্ষা ব্যবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে কোনো স্লোগান দরকার হবে না। খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে থাকবেন আর স্লোগান হবে ৭০ টাকা দরে চাল খাব না, নৌকায় ভোট দেব না। ১৫০ টাকায় পেঁয়াজ খাব না নৌকায় ভোট দেব না।
সরকারের ‘দুর্নীতির’ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গতকাল আমি বলেছি যে, এই সরকারের দুর্নীতির ওপরে আমরা একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি ও বাণিজ্য এই সরকারের আমলে হয় নাই।
কালকে এই কথা বলার পরে অনেকে আমাকে আবার সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর ভীষণ রাগান্বিত, আমার বাড়ি নেওয়ার পরও বোধহয় উনার মনে শান্তি আসে নাই।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইতোমধ্যে বলেছেন, তারা ভোট চাইতে বিএনপিকে কোনো বাধা দিচ্ছেন না।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মীর মো. নাছিরউদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, লেবার পার্টির মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন, সহসভাপতি ফারুক রহমান, আমিনুল ইসলাম, এস এম ইউসুফ আলী, জহিরুল হক, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিয়াম, আবদুর রাজ্জাক রাজু, হুমায়ুন কবির, আল আমিন প্রমুখ।
এখন মওদুদ চাওয়া বেআইনি ভোট প্রধানমন্ত্রীর 2018-03-03