মিরপুরে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে
Posted by: News Desk
March 12, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরের ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পুড়ে গেছে ২৫ হাজার মানুষের বসতবাড়ি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিট।
অগ্নিকাণ্ডে জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে সবাই বেড়িয়ে আসলেও জীবনের অর্জিত সম্পদ বা প্রয়োজনীয় কিছুই বের করতে পারেননি। জীবনযুদ্ধে এ অকল্পনীয় অমানিশায় সব হারিয়ে হিশেহারা ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তিবাসী।
ঘটনাস্থলে আসার রাস্তাগুলো এতই সরু যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। এর পর তখন অনেক বাতাসও ছিল। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল।
মেজর শাকিল জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের ২৩ টি ইউনিট কাজ করে। প্রথমে ১৩টি ইউনিট পরে আরও ৮টি ইউনিট বাড়ানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় আরও ২টি ইউনিট যোগ হয়। আগুন নেভাতে স্থানীয়রাও কাজ করেন। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও কেউ কিছু জানাননি।
তিনি আরো জানান, বস্তিটিতে বেশিরভাগই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা থাকতেন। বস্তির বাসিন্দারা বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক। প্রায় সবার ঘরেই পোশাকের ঝুট ও প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু থাকার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা তিনি জানাতে পারেননি। তবে এক নারীর আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনা তদন্তে শিগগিরই কমিটি গঠন করা হবে।
জানা যায়, বস্তিটি ৭০ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত। বস্তিতে থাকা প্রায় সব ঘরই আগুনে পুড়ে গেছে। এখানে কমপক্ষে সাত থেকে আট হাজার ঘর ছিলো। এসব ঘরে প্রায় ২৫ হাজারের মতো মানুষ বসবাস করতেন।
আজ সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১২ নম্বর এ বস্তিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। চারদিকে মানুষের কান্নার আওয়াজ ও ছুটাছুটি। আগুনে দিশেহারা মানুষগুলোর নিরুপায় আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে মিরপুরের আকাশ।
সামুছুল নামে একজন বস্তিবাসী আহাজারি করে বলেন, ভোর রাতে বাচ্চার কান্নার আওয়াজে ঘুম ভাঙে। প্রথমে শুধু ধোয়া দেখেছি। এরপর কোনো রকমে ঘর ছেড়ে বাইরে বেড়িয়েছি। এখন আর কিছুই নেই। জমানো গোছানো সংসার নিমিষেই শেষ।
কয়েক দিনেই জীবনটা এমনটা হবে বুঝতে পারেননি ফরিদপুরের আলেয়া। গত কয়েক দিন আগেই স্বামীর সঙ্গে ঢাকা এসেছেন। সংসারও নতুন। টাকা বাঁচাতেই ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তির ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। গার্মেন্টসকর্মী স্বামীর বিয়ের সময় কেনা নতুন পোশাক আর ফার্নিচারও পুড়ে ছাই। এসব ভেবে যেন কান্না থামছে না তার।
দেলওয়ার হোসেন নামের একজন বলেন, বস্তিতে অনেক বছর থাকি। এমন করে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি। কমপক্ষে ৮ হাজার ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াছ আলী জানান, বস্তির প্রায় সব ঘরই আগুনে পুড়ে গেছে। এতে ২৫ হাজারের মতো মানুষ বসবাস করতেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকমের সাহায্য করা হবে বলে জানান তিনি।
নিয়ন্ত্রণে আগুন বস্তিতে মিরপুরে ভয়াবহ 2018-03-12