বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি আর নেই
Posted by: News Desk
March 22, 2018
এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : একাত্তরে অনন্য সাহসের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি বীর প্রতীক আর নেই। গতকাল বুধবার রাত রাত ১১টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একাত্তরের এই নারী বীরকন্যা। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঝিরাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কাঁকন বিবির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাঁকন বিবির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. এ কে মাহবুবুল হক।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. সুব্রত দেব গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই ব্রেইনস্ট্রোকের পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাঁকন বিবি। তখন থেকেই দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে তার। এরপর ছাড়পত্র পেলেও গত সোমবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ফুসফুসের একাংশও কাজ করছিল না। তাই তাকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে রেখে চিকিৎসা চলছিল।
গতকাল বুধবার তার চিকিৎসার্থে মেডিকেল বোর্ড বসে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আইসিইউযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স পেতে বিলম্ব হওয়ায় তাকে পাঠানো হয়নি। এরই মধ্যে গতকাল রাত সোয়া ১১টার দিকে মারা যান একাত্তরে সম্মুখ সমরে লড়াই করা এ বীর নারী।
কাকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি ভারতের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশের এক গ্রামে। ১৯৭০ সালে দিরাই উপজেলার শহীদ আলীর সঙ্গে কাকনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার পরিবর্তিত নাম হয় নুরজাহান বেগম। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে।
১৯৭১ সালে তিন দিনের কন্যাসন্তান সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যান কাঁকন বিবি। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। প্রায় ২০টি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন বীর এই যোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি একমাত্র কন্যা সখিনা বিবিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আর নেই মুক্তিযোদ্ধা বীর কাঁকন বিবি 2018-03-22