ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভূমিকম্পে নিহত ১২
Posted by: News Desk
July 29, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলের দ্বীপ ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লোম্বকে ভূমিকম্পে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বীপটিতে ৩ লাখ ১৯ হাজার জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, আজ রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার আগে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়।
বালির ৪০ কিলোমিটার পূর্বে লোম্বক পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। ভূমিকম্পে সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল লম্বকের উত্তরাঞ্চলের শহর মাতারামের উত্তরপূর্ব দিকে মাটির ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার পর ছোট ছোট আরও ৬০টিরও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রার।
টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র লিখেছেন, ভবনধসের বিপদ এড়াতে মানুষ রাস্তা ও খালি মাঠে জড়ো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
টুইটারে কয়েকটি ছবিও দিয়েছেন তিনি, যেখানে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপ দেখা যাচ্ছে।
জিন-পল ভলকার্ট নামের এক ব্যক্তি জানান, মাথার ওপর যেন কোনো কিছু না পড়ে, সেজন্য আমরা বিছানা ছেড়ে দ্রুত লাফিয়ে পড়ি। পল পুনকেক নামের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ভূমিকম্পে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।
‘ভূমিকম্পের সময় হোটেলের পুলের পানি সমুদ্রের পানির মতো দুলছিল। ওই ঢেউ ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। তবে এতে হোটেলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ জানান জিন-পল।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সুতোপো পুরও নুগ্রোহো নামের একজন মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ডজনখানেক বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ওই মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, বাড়িঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে। রাস্তায় রাস্তায় ধ্বংসের স্তূপ।
স্থানীয় এক বাসিন্দাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, ভূমিকম্প শুরুর পর আমার বাড়ির সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, আমরা দৌড়ে বাইরে চলে আসি। প্রতিবেশীরাও বাইরে বেরিয়ে আসেন। আর তখনই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়।
রিং অব ফায়ারের মধ্যে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে থাকা সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর অর্ধেকেরও বেশি প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত ওই রিং অব ফায়ারের মধ্যে অবস্থিত।
দুই বছর আগেও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়, ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারান।
ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার নিহত ১২ মধ্যাঞ্চলে 2018-07-29