রাজশাহী ভ্রমণে বনলতা এক্সপ্রেসে ফ্রি টিকিট!
Posted by: News Desk
April 18, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ওই দিন ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রায় যে কেউ বিনা টিকিটে ভ্রমণ করতে পারবেন। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে নিয়মিত ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
তিনি আরও জানান, আগামী ঈদে রাজধানীর ছয়টি স্থান থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। এছাড়া আগামী ২৮ এপ্রিল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার নতুন অ্যাপসও উদ্বোধন করা হবে। আর ঈদের আগেই ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে কম বিরতি দিয়ে একটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে।
জানা গেছে, এ বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুধু কমলাপুরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে।
কমলাপুরসহ রাজধানীর মোট ছয়টি স্থান থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। স্থানগুলো হলো- কমলাপুর, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (সম্ভাব্য), মিরপুরের পুলিশ কনভেনশন সেন্টার, বিমানবন্দর স্টেশন ও গাজীপুরের জয়দেবপুর।
জানা গেছে, অত্যাধুনিক এ ট্রেনে যুক্ত হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। এই প্রথম দেশের আন্তঃনগর কোনো ট্রেনে যুক্ত হয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়ো-টয়লেট। এখন থেকে মলমূত্র আর রেললাইনের ওপরে পড়বে না। স্টেশনে দাঁড়ানো অবস্থায় টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন যাত্রীরা।
প্রথমবারের মতো ট্রেনটিতে যুক্ত হয়েছে রিক্লেনার চেয়ার। যেখানে পা এবং হেলান দেয়ার আরামদায়ক সুবিধা থাকছে। এসি বাথের কেবিনে বেডরেস্ট সুবিধা তো থাকছেই। যেখানে রাতে বিছিয়ে দিলেই ছোট খাটের মতো হয়ে যাবে। আর কেবিনে ওপরের সিটে ওঠার জন্য স্টিলের মইয়ের বাদলে থাকছে সিঁড়ি।
জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক ১২টি বগি সংযুক্ত হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’। এর মধ্যে শোভন চেয়ার সাতটি, এসি দুটি, একটি পাওয়ার কার, দুটি গার্ডব্রেক ও একটি খাওয়ার বগি। গত ৭ ও এপ্রিল পার্বতীপুর থেকে টাঙ্গাইল (বঙ্গবন্ধু সেতু) পর্যন্ত ট্রায়াল দিয়েছে ট্রেনটি।
এদিকে, ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ আসন সংখ্যা থকছে ৯২৮টি। এর মধ্যে শোভন চেয়ারের ভাড়া হতে পারে ৩৭৫ টাকা। আর স্নিগ্ধার (এসি চেয়ার) ভাড়া হতে পারে ৭১৯ টাকা। এছাড়া ৮৬৩ টাকায় পাওয়া যেতে পারে এসি কেবিন আর ১ হাজার ২৮৮ টাকায় মিলতে পারে এসি বাথ।
বিরতিহীন চার্জ হিসেবে বিদ্যমান ভাড়ার সঙ্গে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে ভ্রমণকারীদের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলপথ মন্ত্রণালয়ে এ ভাড়া প্রস্তাব করেছে। যা অনুমোদন হতে পারে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার বাদে ট্রেনটি সপ্তাহে ছয়দিন চলবে। সিগন্যাল পাসিং দ্রুত শেষ হলে ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ট্রেনটির ভ্রমণ সময় হবে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা।
বিরতিহীন এ ট্রেন হবে দেশের সর্বাধুনিক হাইস্পিড কোচের ট্রেন। ঘণ্টায় এর গতি হবে ১৪০ কিলোমিটার; অর্থাৎ প্রতি মিনিটে পাড়ি দেবে আড়াই কিলোমিটার পথ। বিদ্যমান ট্রেনগুলোতে এখন ৩৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগে। এতে রাজশাহী-ঢাকা ট্রেন ভ্রমণে সময় বাঁচবে আড়াই ঘণ্টা।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ট্রেনটি বেলা ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায়। রাজশাহী থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে বেলা ১১টায়।
বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করছে আন্তঃনগর পদ্মা, ধূমকেতু ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস। শুরুতে সীমিত স্টেশনে থামলেও এখন ১৪টি স্টেশনে থামছে ট্রেনগুলো। ফলে অনেকটা লোকাল ট্রেনের মতো অবস্থা এসব ট্রেনের। মাঝেমধ্যে লেগে যায় শিডিউল বিপর্যয়। এতে বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। ফলে নতুন বিরতিহীন ট্রেনের জন্য উন্মুখ এখানকার মানুষ।
রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম বলেন, প্রতিটি বগি বর্তমান ট্রেনের বগিগুলোর চেয়ে প্রশস্ত। ট্রেনের কারিগরি যন্ত্রাংশ অনেক উন্নতমানের। এখন থেকে যেসব ইঞ্জিন রেলওয়ে বহরে যুক্ত হচ্ছে, তা অত্যাধুনিক। তাই এটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হয়ে আসছে রেলযাত্রীদের জন্য।
রাজশাহী ভ্রমণে বনলতা এক্সপ্রেসে ফ্রি টিকিট 2019-04-18