Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে বিক্ষোভ

হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে বিক্ষোভ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের করা প্রস্তাবিত ‘প্রত্যর্পণ বিল’ পাস না করানোর দাবিতে হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। আজ ১২ জুন বিলটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে চীন সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বিক্ষোভের পরও পিছু না হটে বিলটি পাস করার কথা জানায় হংকং প্রশাসন। প্রশাসনের এমন ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়ে লাখো ছাত্র-জনতা।। আজ বুধবার সকালে মুখে মাস্ক এবং হেলমেট পরে তারা পার্লামেন্ট ভবনের পাশে রাস্তায় অবস্থান নেয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হলেও একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুড়া ছিটায়।

গত বছরের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত বিলটি তৈরি করা হয়। হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় গর্ভবতী বান্ধবীকে খুন করে হংকংয়ে ফিরে আসা ওই ব্যক্তিকে তাইওয়ানে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে চীনের কাছে হংকংয়ের হস্তান্তরের পর থেকে বিতর্কিত এই বিলটিকে কেন্দ্র করে গত রবিবার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখেছে এশিয়ার এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রটি, কিন্তু তারপরও প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী লাম।

২২ বছর আগে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় যুক্তরাজ্য শহরটির স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিল।

হংকংয়ের কারণেই চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যকে প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজেদের ভূখণ্ডভুক্ত হওয়ার পর থেকেই বেইজিং হংকংয়ের গণতান্ত্রিক সংস্কারে বাধা, স্থানীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও বিরোধীদের ওপর তুমুল দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের।

চীন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

হংকংয়ের এ সপ্তাহের বিক্ষোভে ‘বিদেশি শক্তির ইন্ধন’ও দেখছে চীনের গণমাধ্যমগুলো।

নির্যাতন, নির্বিচার ধরপাকড়, জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা এবং চীনের আদালতগুলো ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোও হংকংকে এ বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে আর অগ্রসর না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

চীন তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

উল্লেখ্য, হংকং চীনের একটি বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। প্রায় দেড়’শ বছর শাসন করায় ব্রিটিশরা হংকংয়ের দায়িত্ব চীনের কাছে দিয়ে যায়। এ অঞ্চলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তবে হংকংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো চীনই নিয়ে থাকে।-রয়টার্স

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...