এমএনএ রিপোর্ট : আমরা দেখেছি বিএনপি বন্যা প্লাবিত এলাকায় গিয়ে ফটোসেশন করেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ফটোসেশনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা জনগণের রাজনীতি করি। আমরা ফটোসেশন করতে আসিনি, আমরা এসেছি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ শুক্রবার দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে দিনাজপুর যাওয়ার প্রাক্কালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পথসভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মন্ত্রী বলেন, “এবারের বন্যা নজীরবিহীন। দেশে বহু বছরেও এমন বন্যা হয়নি। ভয়াবহ বন্যায় দেশের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের মানুষ তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাড়িঘর ও সহায় সম্পদ হারিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের সর্বস্তরের লোকজন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দেশের দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সত্যিকার অর্থে বন্যা প্লাবিত মানুষের দুর্ভোগের অবসান না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে। আওয়ামী লীগ সরকার দরিদ্রবান্ধব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্ভোগ তাড়িত মানুষের বেদনা অনুভব করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই সরকার তাদের সবাইকেই পুনর্বাসন করবে। “
সৈয়দপুর স্টেডিয়ামের সামনে আয়োজিত পথসভায় সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সারা দেশে বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থাকব।”
বন্যার পানি সরে গেলে রোগ-বালাই দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এ জন্য আমাদের মেডিক্যাল টিম রয়েছে। তারা কাজ করছেন, কাজ করবেন। কিন্তু তারপরও বিএনপি বলছে ত্রাণ তৎপরতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ” মন্ত্রী পথসভায় উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন আপনারাই বলুন, আমরা কি ত্রাণ তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছি?
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার নেতৃবৃন্দ ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা কথা বলছেন। আর আওয়ামী লীগ হাওয়ায় কথা ছেড়ে দেয় না, বিএনপির মতো অন্ধকারে ঢিল ছোড়ে না। “
ওবায়দুল কাদের বলেন, “এর আগেও বিএনপি হাওরাঞ্চল ও উপকূলীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যায়নি। আর পাহাড়ে গিয়ে নাটক করে চলে এসেছে। এরপর উত্তরাঞ্চলে এসে চলে গেছেন ফটোসেশন করে। এই হচ্ছে তাদের রাজনীতি। “
বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী রায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা (বিএনপি) ওই রায় সম্পর্কে কোনও রকম মন্তব্য করেননি। মৌনতা সম্মতির লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর মানে তারা অবৈধ দখলের রায় মেনে নিয়েছেন। “
পথসভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্বাস আলী সরকার। এ সময় অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক বাবু সজিত রায় নন্দী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল জাসদের নাজমুল হক প্রধান, নীলফামারী ৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্বাস আলী সরকার, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ রহীম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বজলুর রশীদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে বন্যার্ত ৩০০ মানুষের প্রত্যেকের হাতে ১০ কেজি করে চাল ও ৫০০ টাকা করে তুলে দেন। এর আগে সকালে ওবায়দুল কাদের তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা থেকে বেসরকারি সংস্থার একটি বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। পরে তিনি দিনাজপুরে যাওয়ার পথে সৈয়দপুরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন। এরপর সড়কপথে দিনাজপুরের বিরলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

