মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ৫১তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীর তুরাগতীরে ধর্মপ্রাণ লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। । আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রায় দুই দশক ধরে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত আলেম, দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদের খতিব ও বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা জোবায়েরুল হাসান। তিনি দুই বছর আগে মারা যান। এর পরের বছর থেকে মোনাজাত পরিচালনা করছেন ভারতের আরেক শীর্ষস্থানীয় তাবলিগ মুরব্বি দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। গত বছরও প্রথম পর্বের ন্যায় এবারও প্রথম পর্বে তিনিই মোনাজাত পরিচালনা করবেন। মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ান করবেন তিনি।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে আজ ভোর থেকে লাখো মুসল্লি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো মুসল্লিরা আসছেন। টঙ্গী শহর, ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যত দূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। তাঁরা মুরব্বিদের বয়ান শুনছেন।
এদিকে দেশ বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে এবাদত, বন্দেগী, জিকির, আসকার আর আল্লাহু আকবর ধনিতে উত্তাল কহর দরিয়া খ্যাত টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান।
মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে লাখো মুসল্লি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হয়েছেন। বেলা সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তখনো তুরাগ তীরগামী মুসল্লিদের ঢল আসতে দেখা গেছে। ফজরের নামাজের পরই টঙ্গী শহর, ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
মুসল্লিরা বলছেন, ইজতেমায় অংশ নিয়ে তাঁরা দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার জন্য দোয়া করবেন। ইজতেমার শিক্ষা তাঁরা ছড়িয়ে দেবেন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তা কাজে লাগাবেন।
এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। ইজতেমা স্থল ও চারপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচলে আগেই বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, সব ধরনের নাশকতার বিষয় বিবেচনায় রেখে ইজতেমা ময়দানে এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত আছেন। তারা মুসল্লিদের ঘরে ফেরা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমার আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
টঙ্গী স্টেশনের স্টেশনমাষ্টার মো: হালিমুজ্জামান জানান, মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আখেরি মোনাজাতের দিন ২৩ টি বিশেষ ট্রেন এবং সকল ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজনসহ ১১১টি ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থান সংকুলান না হওয়াসহ অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে এবারই প্রথম দেশের ৩২টি জেলার মুসল্লিরা দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা আগামী বছর ইজতেমায় অংশ নেবেন। যারা প্রথম পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন তারা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে পারবেন না। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে এবং ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার।
২০১৪ সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন শুরু হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক





