Don't Miss
Home / প্রচ্ছদ / আন্দামানে ট্রলারডুবি: ৯ জন উদ্ধার, রোহিঙ্গাসহ ২৬৪ জন নিখোঁজ, টেকনাফে স্বজনদের আহাজারি

আন্দামানে ট্রলারডুবি: ৯ জন উদ্ধার, রোহিঙ্গাসহ ২৬৪ জন নিখোঁজ, টেকনাফে স্বজনদের আহাজারি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল হয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোনে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ও উন্নত জীবনের আশায় দালালদের প্রলোভনে পড়ে তারা সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তবে মাঝপথে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন—কক্সবাজারের শান্তিপাড়ার মো. হামিদ, মো. সায়াদ আলম ও মো. আকবর; টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের মো. সোহান উদ্দিন; চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. হৃদয়; উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মো. রফিকুল ইসলাম; রাহেলা বেগম; মো. ইমরান এবং টেকনাফ বড়ডিল এলাকার মো. তোফায়েল।

নিখোঁজ এনায়েতুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ কালু বলেন, তার ছেলে স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। গত ২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, দালালচক্রের মাধ্যমে তিনি সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। পরে ট্রলারডুবির খবর আসে। “আমার ছেলে বেঁচে আছে নাকি সাগরে হারিয়ে গেছে—কিছুই জানি না,” বলেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান জানান, তার দুই ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ ও মোহাম্মদ তারেক একই ট্রলারে ছিলেন। “তারা জীবিত না মৃত—এই অনিশ্চয়তা নিয়ে আমরা দিন কাটাচ্ছি,” বলেন তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ-উখিয়া এলাকায় সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এখনও অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা করছে।

ঘটনার বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা নারী রাহেলা বেগম জানান, তাকে মালয়েশিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। “সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। আমরা ৯ জন ভাসমান অবস্থায় ছিলাম, পরে একটি ট্রলার আমাদের উদ্ধার করে। আমি নিজের চোখে অনেক নারী-পুরুষকে ডুবে যেতে দেখেছি,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে। পরে তাদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং দালালদের মিথ্যা প্রলোভনের কারণে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই পথ বেছে নিচ্ছে। তারা এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...