এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলা সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছিল— এ রহস্য উন্মোচন হয়নি এখনও। মৃত্যুর ২০ বছরেও পুরোপুরি মীমাংসা না হওয়া বিষয়টি এবার নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।
সালমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি গতকাল রবিবার ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন,সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল।
রুবির স্বামী জ্যানলিন চ্যান, ছোট ভাই রুমী, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ বেশ কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
ভিডিওতে তাকে বেশ আতঙ্কগ্রস্ত দেখা গেছে। এ সময় নিজেকে বাঁচানোর আকুতি জানান রুবি। তবে কোথা থেকে ভিডিওটি আপলোড করেছেন তা বলেননি তিনি।
ভিডিওটিতে রাবেয়া সুলতানা রুবি বলেন, সালমান শাহ্ আত্মহত্যা করেনি, সে খুন হয়েছে। আমার হাজব্যান্ড আমার ভাইকে দিয়ে এটা করিয়েছে। সামিরার ফ্যামিলি এটা করিয়েছে আমার ভাইকে দিয়ে। বাকিরা সব চাইনিজ মানুষ। আমি রুবি, এখানে ভেগে এসেছি। এই কেস (মামলা) যেন শেষ না হয়।
তিনি ওই ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, আমি যেভাবে পারি ঠিকমতো যেন সাক্ষী দিতে পারি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমাকেও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দয়া করে আমার জন্য দোয়া করেন, আমি ভালো নাই। আমি কী করব আমি জানি না, শুধু এইটুকু জানি- সালমান শাহ্ মানে ইমন আত্মহত্যা করেনি। তাকে সামিরা, আমার স্বামী ও সামিরার পরিবারের সবাই মিলে খুন করেছে। প্লিজ কিছু করেন।
চাইনিজদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এরা কী মানুষ আপনারা জানেন না। আমি এখানে ভেগে এসেছি। দয়া করে আপনারা কাউকে জানান। আমার ছোট ভাই রুমীকে দিয়ে সালমানকে খুন করানো হয়েছে। পরে রুমীকেও খুন করানো হয়েছে। আমি জানি না রুমীর কবর কোথায়। রুমীর লাশ তুলে যদি আবার পোস্টমর্টেম করা হয় তাহলে দেখা যাবে, তাকেও খুন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আমার খালু মমতাজ হাসান আছে, খালাতো ভাই জুম্মাও থাকতে পারে।
নিজ স্বামীর পরিচয় তুলে ধরে রুবি বলেন, আমার হাজব্যান্ড জ্যানলিন চ্যান বাংলাদেশে পরিচিত ছিল জন চ্যান নামে। সে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে সাংহাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিল। আমিই শেষ ব্যক্তি যে কি-না সালমান শাহ খুনের বিষয়ে জানি। আমি এটা প্রমাণ করতে পারব ইনশাল্লাহ। দয়া করে একটু সাহায্য করেন।

তিনি আরও বলেন, এরা বাসার মধ্যে আমাকেও খুন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সুযোগ করতে পারেনি। আমি আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি আমাকে খুন করতে চাও, না?
ও আমাকে বলেছে, তোকে তো খুন করলে সেই কবেই করতাম। আসলে এটা আমি জানি যে, ও আমাকে খুন করতে চায়, কারণ আবার কেসটি (সালমান শাহ হত্যা মামলা) ওপেন হয়েছে। প্লিজ দয়া করে কিছু করেন।
সালমানের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে রাবেয়া সুলতানা রুবি বলেন, নীলা ভাবি, আপনার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। আমি ভেগে আসছি। না হলে ওরা সবাই মিলে আমাকেও মেরে ফেলতো।
এই ভিডিওটি নজরে আসে লন্ডনে অবস্থানরত সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীর। তিনি তার ছোট ছেলে শাহরানের কাছে আছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সালমান শাহ’র মা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রিয়জন, খেয়াল রাখবেন এই নিউজের পর অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। শান্তভাবে কাজ করবে।’
সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে দিকেও নজর দিতে অনুরোধ জানান নীলা চৌধুরি।
রুবির ভিডিও বার্তাটি দেখে তার উদ্দেশে নীলা চৌধুরি ফেসবুকে লেখেন, ‘রুবি তুমি এতো কথা বলতে পারছ তাহলে এফবিআই বা আমেরিকার পুলিশকে জানাতে পারছ না কেন? তারা যাতে তোমাকে নিরাপদে রাখে। তোমার ফোন নাম্বার দাও।’
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তখন ধারণা করা হয় সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তখন জনপ্রিয় এ নায়কের বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। তবে এ দাবি নাকচ করে ছেলের মৃত্যুতে হত্যা মামলা করেন সালমানের মা নীলা চৌধুরি।
এরপর ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভি আহমেদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বাসায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন সালমানের বাবা। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হলে রিজভি আদালতে দাবি করেন, সালমানকে খুন করা হয়েছে।
এ হত্যায় সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার শাশুড়ি লতিফা হক, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সালমানের বন্ধু আশরাফুল হক ওরফে ডন এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই জড়িতসহ ১১ জন। মামলার আসামি ছিলেন ওই ভিডিও বার্তা প্রচারকারী রাবেয়া সুলতানা রুবিও।
১৫ বছর ধরে চলেছে সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত। সব কটি তদন্ত প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

