আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইসরায়েল, ইরানসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, আল-জাজিরা ও বিবিসি বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্ফোরণ, আকাশসীমা বন্ধ
বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি অবস্থিত। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তিন দেশই তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশ
ইরানে হামলার পর কাতার ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মার্কিন দূতাবাস থেকে ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকদের নিজ নিজ আবাসস্থল বা নিরাপদ ভবনে অবস্থান নিতে, খাদ্য, পানি ও জরুরি ওষুধ মজুত রাখতে এবং বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ইরানে ‘যৌথ হামলা
’র ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর কথা স্বীকার করে বলেছেন, এই যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য “মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি শাসকদের হুমকি বন্ধ করা।”
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলাকে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক’ (প্রি-এম্পটিভ) আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।
তেহরানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা
ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান ছাড়াও ইস্পাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তেহরানের অতি-সুরক্ষিত পাস্তুর এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। সেখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন অবস্থিত।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসোউদ পেজেসকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন।
ইসরায়েলে পাল্টা হামলার দাবি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। কিছু গণমাধ্যমে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
‘ভয়াবহ জবাব’ দেওয়ার প্রস্তুতি তেহরানের
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটি “ভয়াবহ জবাব” দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে তেহরানের কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবির মন্তব্যে বিতর্ক
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সীমানা বিস্তার করে, তবে তা ‘ঠিকই’ হবে—যা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

