ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রতেই ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত
Posted by: News Desk
January 11, 2020
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানের ইমাম খামেনি বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ১৭৬ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনগামী বোয়িং-৭৩৭ বিমান পিএস৭৫২। এমন কথা স্বীকার করে নিয়েছ ইরানের সেনাবাহিনী। খবর বিবিসি’র।
আজ শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে ইরান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের ওই বিমানটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় । এটিকে মানবীয় ভুল বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছে ইরান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই ভুলের পেছনে যারা দায়ী তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত বুধবার ৮ জানুয়ারি ইরানের খামিনি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সঙ্গে সঙ্গেই বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনগামী পিএস৭৫২ বিমানটি। এতে বিমানের ১৭৬ যাত্রী ও ক্রুর সবাই প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ইরানের ৮২, কানাডার ৬৩, ইউক্রেনের ১১, সুইডেনের ১০, চারজন আফগানিস্তান, তিনজন জার্মানি এবং অপর তিনজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইরানকে দায়ী করে। তবে ইরানের দাবি ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ইউক্রেনের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে ‘ভুল’ করে ইউক্রেনের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
আজ শনিবার এক টুইটে তিনি দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনাটিকে ‘অমার্জনীয় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হাসান রুহানি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমার্জনীয় ভুল’।
তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর তদন্ত থেকে জানা যায়, মানবীয় ভুলের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিরীহ ১৭৬ মানুষ নিহত হন।’
‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমার্জনীয় ভুলের এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে’, যোগ করেন রুহানি।
এর আগে আজ শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ভূপাতিত করা হয়েছে বলে স্বীকার করে দেশটির সামরিক বাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানবীয় ভুলে’র কারণে তারা ইউক্রেনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্য রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজে থাকা ১৭৬ জন আরোহীর সবাই নিহত হন।
মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ইরাকে দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান থেকে ইউক্রেনগামী যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল ইরান।
কিন্তু ভুল করে ইরান হয়তো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন জোরালো দাবি তোলার পর থেকে ইরানের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এরই মাঝে আজ শনিবার সকালে তাদের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে আসে স্বীকারোক্তি।
বিধ্বস্ত বিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রতেই ইউক্রেনের 2020-01-11