Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা হয়নি, পথ খোলা রেখে প্রতিনিধি দলগুলোর প্রস্থান

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা হয়নি, পথ খোলা রেখে প্রতিনিধি দলগুলোর প্রস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে একে একে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন উভয় পক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিরা, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল রোববার সকালে তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।

সমঝোতা হয়নি, তবে কূটনীতি শেষ নয়

দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। তিনি আলোচনার ব্যর্থতার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করলেও ইরান তা মেনে নেয়নি, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত শর্তগুলো।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কূটনীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখার প্রবণতা নাকচ করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “একটি বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তি হবে—এমন কোনো প্রত্যাশা আমাদের ছিল না। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে তেহরান।

ট্রাম্পের নীরবতা ও বাড়ছে জল্পনা

বৈঠকের পর এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও কয়েকদিন আগেই তিনি এক বার্তায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান চাইলে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে পারে।

যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি?

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হতে আরও প্রায় ১০ দিন বাকি। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ, এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি

এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও উত্তেজনা বেড়েছে। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি বসতিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলি ও মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, লেবাননের কানা শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইসলামাবাদের এই বৈঠক তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না দিলেও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে—তা নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের অবস্থান ও তেহরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—কূটনীতি কি আবার গতি পাবে, নাকি সংঘাতের দিকেই এগোবে মধ্যপ্রাচ্য?

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...