এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর মহামারীর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি মেনে নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধি নির্ধারণের পথ থেকে সরে এসেছে সরকার। বাজেটে জিডিপির হার নির্ধারণের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাবে কর্মসংস্থান। করোনা মোকাবিলায় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল রাখার প্রস্তাব থাকছে। একইসঙ্গে মাথায় রাখা হচ্ছে দেশের চলমান প্রকল্পগুলো বিশেষ করে মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অর্থায়নের বিষয়টিও।
নতুন বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তুত। আগামী ৩ জুন বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। করোনা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৈরি করা এ বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার কম বেশি। বরাবরের মতো নতুন অর্থবছরের বাজেটেও (প্রস্তাবিত) ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। তবে এবার নতুন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে থাকবে না কোনো ধরনের মাতামাতি।
করোনার থাবায় গত বছরের মার্চ থেকেই বিপর্যস্ত হয়েছে অর্থনীতি। উৎপাদনের চাকা ঘোরেনি বহুদিন। নিম্ন আয়ের মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রফতানি আয় কমেছে। আমদানিও হ্রাস পেয়েছে। এক রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই হয়েছে নেতিবাচক।
অবশ্য প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পেছনে সরকারের ঘোষিত ২ শতাংশ এবং অনেক ব্যাংকের বাড়তি আরো ১ শতাংশ প্রণোদনার বড় ভূমিকা রয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই দেশি-বিদেশি সব সংস্থা ও গবেষকদের কাছ থেকে বেশকিছু বাস্তবমুখী পরামর্শ আসে। কিন্তু সবকিছু এড়িয়ে সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৮.২ শতাংশ। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা এক দফা কমিয়ে ৭.৪ শতাংশ করা হয়। এখন আরেক দফায় তা কমিয়ে ৬ শতাংশের নিচে আনা হবে। করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মেনে নিয়ে প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণের উচ্চাভিলাষী পথে সরকার যাচ্ছে না বলেই জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্রমতে, ৫ শতাংশ ঘাটতি রেখেই চলছে বাজেট তৈরির কাজ। ঘাটতি অর্থায়নের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করার টার্গেট করা হচ্ছে। ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। যা ঘাটতি অর্থায়নে সহায়ক হতে পারে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে আয় করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, করোনার কারণে বাজেট তৈরিতে এবার ভিন্নমাত্রা পাবে বাজেট। বিশেষ করে জিডিপিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে মানুষের কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাজেট। পাশাপাশি এসব কর্মহীন মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তাও একটি বড় কাজ। যতদিন কর্মের ব্যবস্থা না হচ্ছে ততদিন অন্তত তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টা থাকবে বাজেটে।
একইসঙ্গে সরকারের চলমান কর্মকাণ্ড বিশেষ করে মেগা প্রকল্পের কাজে অর্থায়ন অব্যাহত রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিল্পে প্রণোদনার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে সরকারকে।
আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থাকছে এবার। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

