এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের জন্য আফ্রিকা মহাদেশ অনেক সম্ভাবনাময়। অথচ বাজারটি এখনও প্রায় অধরা রয়েছে। গতবছর আফ্রিকার দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্য ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হলেও বাংলাদেশ তার মোট রফতানির মাত্র ১.০২ শতাংশ আফ্রিকায় রফতানি করে। যদিও সেখানে বাংলাদেশের ওষুধ, টেক্সটাইল, কৃষিজাত পণ্য, পাটপণ্য ও পাদুকাসহ অন্যান্য পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
এ অবস্থায় এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধিকল্পে আফ্রিকার বাজারে পণ্য রফতানির পাশাপাশি সেখানে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন ‘বাংলাদেশ ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারের বক্তারা। শনিবার ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২১’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনের পঞ্চম দিন শনিবার ‘বাংলাদেশ ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথি এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে বাংলাদেশের মোট রফতানির মাত্র ১.০২ শতাংশ আফ্রিকার দেশগুলোয় রফতানি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ প্রধানত তুলা আমদানি করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের টেক্সটাইল, কৃষি, ফিশারিজ, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ খাতে আফ্রিকার বিনিয়োগ প্রায় ৩০৬ মিলিয়ন ডলার। আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুকরণ, বাংলাদেশে আফ্রিকার দেশগুলোর দূতাবাস স্থাপন, এফটিএ ও পিটিএ স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সুযোগ গ্রহণ করতে দেশের উদ্যোক্তাদের আরও উদ্যমী হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ওষুধ, টেক্সটাইল, কৃষিজাত পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাট ও পাটজাতপণ্য, চামড়া ও পাদুকা প্রভৃতি পণ্যেও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রী আফ্রিকা অঞ্চলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ হতে নীতি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, আফ্রিকা মহাদেশে প্রচুর জমি রয়েছে, যেখানে আমাদের উদ্যোক্তারা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান জানান, সারা বিশ্বের সঙ্গে আফ্রিকার বাণিজ্যের পরিমাণ ৮৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বৈশি^ক বাণিজ্যের মাত্র ৩ শতাংশ এবং গত বছর আফ্রিকার দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি উল্লেখ্য করেন, আফ্রিকার বাণিজ্য প্রধানত ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া)’ এবং ‘কমন মার্কেট ফর ইস্টার্ন অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা (কমেসা)’-এর মাধ্যমে বেশি মাত্রায় প্রভাবিত হয়ে থাকে। তিনি জানান, আফ্রিকায় বাংলাদেশি পণ্য রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইপিবি ৫টি বাণিজ্য মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। রফতানিকৃত পণ্যের ওপর আফ্রিকার দেশগুলোর উচ্চ শুল্কারোপের কারণে সেখানে বাংলাদেশের রফতানি কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নীত হচ্ছে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আমাদের রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বেশি হারে বাংলাদেশি পণ্য আফ্রিকাতে রফতানির উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোরারোপ করেন ইপিবি প্রধান।
ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আফ্রিকা) মো. তারিকুল ইসলাম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, এফসিএ, এফসিএমএ এবং ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর ওষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ ভাগ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়ে থাকে, যার ফলে এ খাতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ওষুধ শিল্প আফ্রিকায় শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বেশ স্বল্পতা রয়েছে বলে, তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

