Don't Miss
Home / জাতীয় / এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনে সূচিত হবে যোগাযোগে নতুন দিগন্ত
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনে সূচিত হবে যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ কেবল রাজধানী ঢাকা শহরে ভয়াবহ যানজটে দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। মহানগরীর এই অসহনীয় যানজটে শুধু মানুষের ভোগান্তি ও কর্মঘণ্টাই নষ্ট হয় না, এতে স্বাস্থ্য-জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তথ্য বিশ্বব্যাংকের।

অবশেষে আজ ২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হচ্ছে দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক)। দৃষ্টিনন্দন এ এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেয়ার মধ্যদিয়ে রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এতে সড়কে গাড়ির চাপ কমার কারণে অসহনীয় যানজট থেকে মুক্তি পাবেন নগরবাসী। একই সঙ্গে সূচিত হবে যোগাযোগে নতুন দিগন্ত। এমটাই মনে করছে সরকারের সড়ক ও সেতু বিভাগ।

আজ শনিবার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ের এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত প্রথম অংশ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে সড়ক ও সেতু বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার সকালের বৃষ্টিতে নগরবাসী যখন ঢাকার নানাপ্রান্তে স্থবির যানজটের সাক্ষী, তখন উড়াল এই পথে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট মেইন লাইনের দৈর্ঘ্য ১১.৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মোট ১৫টি র্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি র্যাম্প উন্মুক্ত। এ উড়াল সড়কে গাড়ির গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ৮০ কিমি। এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত আসতে সময় লাগবে ১০ মিনিট বলে জানা গেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল জানান, যানজটের এই নগরীতে, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার উড়াল পথযাত্রীদের স্বস্তি দেবে। তবে পাতালরেল আর মেট্রোরেলের সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজট থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের আরেকটি মাইলফলক এই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য উড়াল সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মাণ হলে মাত্র ২০ মিনিটে উত্তরা থেকে কুতুবখালী দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠা যাবে। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে বদলে যাবে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা। এতে ঢাকা শহরের যানজট অনেকটা কমে যাবে এবং যাতায়াতে সময় ও খরচ কম লাগবে।

গত আগষ্ট মাসের মধ্যভাগে এক সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই, ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পথচারী ও বাইসাইকেল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চলবে না। আপাতত মোটরসাইকেল চলাচল করবে না।

তিনি জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। ১৯.৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পটি আগামী বছরের ২ জুন শেষ হবে। একই দিন তিনি আরও বলেন, আগামী ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম বঙ্গবন্ধু ট্যানেল উদ্বোধন করা হবে। ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্ধিত অংশের উদ্বোধন হবে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প: ঢাকা শহরের যানজট নিরসনসহ ভ্রমণে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক দেশের বৃহত্তম প্রকল্প। প্রকল্পটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে শুরু হয়ে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-মালিবাগ-খিলগাঁও-কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত যাবে। প্রকল্পের মূল দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিমি। র্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিমি।

সেতু বিভাগ জানায়, প্রকল্পটি ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ করিডরের সড়কপথের ধারণক্ষমতা বাড়াবে। এ ছাড়া প্রকল্পটি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হলে ঢাকা ইপিজেড ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ সহজতর হবে। এতে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্পটি থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইটালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (৫১ শতাংশ) এবং চায়নাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ (৩৪ শতাংশ) ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের (১৫ শতাংশ) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যার ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার ভিজিএফ হিসেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে দেবে।

বর্তমানে প্রকল্পের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ যান চলাচলে জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এ অংশের মেইন লাইনের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৫ কিমি এবং র্যাম্পের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক শূন্য কিমি। র্যাম্পসহ মোট দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৫ কি.মি.। এ অংশে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প (এয়ারপোর্ট-২, কুড়িল-৩, বনানী-৪, মহাখালী-৩, বিজয়সরণি-২ ও ফার্মগেট-১) রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি র্যাম্প যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প থেকে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ তুলবে চলাচলকারী যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে। এজন্য তারা টোল প্লাজা নির্মাণ করেছে। এই উড়াল সড়কে সর্বনিম্ন টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সির মতো হালকা শ্রেণির যানবাহনের জন টোলের এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৬২৫ টাকা টোল ধরা হয়েছে বড় ট্রাকের জন্য।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উড়াল সড়ক ২০১৪ সালে চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে নকশা ও ভূমি জটিলতায় কাজ পিছিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর উড়াল সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগকারী ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় সংশোধিত চুক্তি করে সেতু বিভাগ। মূল অবকাঠামো নির্মাণে ইতাল-থাই ৬ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এ জন্য চীনের দুই ব্যাংক থেকে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ভায়াবেলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (ভিজিএফ) বাবদ সরকার দেবে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।

প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ঘোষণা ছিল ২০১৯ সালেই চালু হবে প্রকল্পটি। পরে আরও দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্প মেয়াদ।

x

Check Also

পুলিশ হবে নিরপেক্ষ, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ীই ...