করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ২৬৯৯ জন
Posted by: News Desk
February 25, 2020
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইতোমধ্যে গোটা পৃথিবীতে ৮০ হাজার ১৪৬ জন মানুষকে আক্রান্ত করে ২৬৯৯ জনের মৃত্যু ঘটানো নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) যাতে বিশ্বজোড়া প্রাদুর্ভাব হয়ে দেখা দিতে না পারে, সেজন্য আরও জোরে শোরে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে উদ্ধৃত করে ভাইরাসটির সর্বশেষ খবর ২৪ ঘণ্টা ধরে জানাচ্ছে https://systems.jhu.edu/ লাইভ ড্যাশবোর্ড। তাদের তথ্য মতে, যে হুবেই প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সেখানেই শুধু মারা গেছে ২ হাজার ৫৬৩ জন। গতকাল সোমবার দেশটিতে একদিনে মারা গেছে ৭১ জন।
দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করার পথে।
কোনো সংক্রামক ব্যাধি যখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়, রোগতত্ত্বের ভাষায় তখন তাকে বলে প্যানডেমিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে তারা এখনই ‘প্যানডেমিক’ তকমা দিচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে সেদিকে না যায়, সেজন্য সব দেশকেই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে।
নতুন করোনাভাইরাস পৌঁছে গেছে ইরাকেও। নাজাফ শহরে শিশুদের মুখে মুখে মাস্ক। ছবি: রয়টার্সনতুন করোনা ভাইরাস পৌঁছে গেছে ইরাকেও। নাজাফ শহরে শিশুদের মুখে মুখে মাস্ক।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। গত ডিসেম্বরের শেষে মধ্য চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা এ রোগ ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে ৩৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৫০৮ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪০৯ জন।
সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৬৫৮ জনে। আর বিশ্বে এ সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
গতকাল সোমবার চীনে মোট ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনা ভাইরাসে, এর মধ্যে ৬৮ জনই মারা গেছেন হুবেই প্রদেশে,যে অঞ্চলকে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি বলা হচ্ছে। চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬৩ জনে।
চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল সোমবার, সব মিলিয়ে চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ জন।
তাদের মধ্যে ইরানে ১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে ৭ জন করে, জাপানে চারজন, হংকংয়ে দুইজন এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।
ঠিক কীভাবে করোনা ভাইরাস মানুষের দেহে এসেছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগের কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর হার রয়েছে দুই শতাংশের নিচে, যা সার্সের চেয়ে কম।
এক সপ্তাহ আগেও নতুন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ চীনের মধ্যেই ছিল বেশি। কিন্তু গত কয়েক দিনে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। গতকাল সোমবার ইরাক, আফগানিস্তান, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনেও কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে অর্থনীতির জন্য। সেই উদ্বেগে আজ মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে সূচক পতন ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব অর্থনীতির এই থমকে যাওয়া সাময়িক। তারা আশা করছেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকের পর ভাইরাসের প্রকোপ কমতে শুরু করলে ব্যবসা-বাণিজ্যও দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ দিনে দিনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। কিছু রোগীর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাদের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।’
করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।
এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।
২৬৯৯ জন মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ভাইরাসে করোনা 2020-02-25