Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / করোনা শিশুদের খিটখিটে মেজাজের করে তুলছে
করোনার

করোনা শিশুদের খিটখিটে মেজাজের করে তুলছে

এমএনএ জীবনচর্চা ডেস্কঃ সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও পড়েছে করোনার আঘাত। এ ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষের ওপর। বাদ যায়নি কোমলমতি শিশুরাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে বদলে গেছে শিশুদের নিত্যদিনের রুটিন। কিছুদিন আগেও যে শিশুটি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেত , স্কুল শেষে খেলাধুলা বা টিভি দেখা ছিলো নিত্যদিনের রুটিন। সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসা এবং রাতের খাবারের পর ঘুম, ছুটির দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে বাইরে ঘুরাঘুরি করে বিকশিত হচ্ছিল যাদের মেধা। কিন্তু করোনার কারণে এসব শিশুদের দৈনন্দিন কাজে এসেছে নানা পরিবর্তন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ শিশুই হয়ে উঠছে খিটখিটে মেজাজি। এমন পরিস্থিতিতে কোমলমতি এসব শিশুদের মানসিক বিকাশ অব্যাহত রাখতে সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

অভিভাবকদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে শিশুরা ঘরের বাইরে খেলাধুলা করা, স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাসের পর মাস এভাবে ঘরবন্দি হয়ে থাকায় তাদের মানসিক বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একঘেয়েমি থাকার কারণে দিন দিন খিটখিটে মেজাজি হয়ে উঠছে তারা। বই, খাতা, কলম ছেড়ে মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে তাদের। এমন পরিস্থিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে বাচ্চারা বড়দের তুলনায় কোভিড-১৯ দ্বারা কম আক্রান্ত হয়। কিন্তু তারা রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। যদিও বাচ্চাদের মধ্যে লক্ষণ কম দেখা যায়।

বাসায় থাকায় শিশুরা ডিজিটালাইজ হচ্ছে এতে যেমন উপকার আছে তেমনি ক্ষতিও। চার ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের সামনে বসে থাকলে বাচ্চারদের ওজন বেড়ে যাবে। পরবর্তিতে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি শারীরিক রোগের বীজ নিয়ে চলতে হবে। বাচ্চাদের ক্যান্সারে আক্রান্তের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। কারণ ডিভাইস থেকে যে রেডিয়েশন বিচ্ছুরিত হয় তা বাচ্চাদের হাড়ে, টিস্যুতে অনেক বেশি সঞ্চিত হয়, যা কারসিনোজেন হিসেবে শরীরে থেকে যায়। এমন অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে।

মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পরিবারের সদস্যদের একে অন্যকে সাহায্য করতে হবে। একে অপরকে সময় দিতে হবে। সময় মতো ঘুমের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। আশেপাশের পরিবেশকে সুন্দর করে রাখতে হবে।

করোনাকাল তাদের জন্য একটা বন্দিদশা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খেলাধুলা কমে যাচ্ছে, যে সময়টা স্কুলে যাওয়ার মাধ্যমে একটা সুস্থ সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি হওয়ার সময়, সে জায়গাটা আজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিতে যারা তাদের আরো মানসিকভাবে গুটিয়ে ফেলার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক যোগাযোগ কমে যাওয়া, শেয়ারিংয়ের জায়গা কমে যাওয়া। শিশু বা বয়ঃসন্ধি দুই স্টেজের শিশুরাই আউটডোর বিনোদনের অভাবে ডিজিটাল গ্যাজেট, সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে পড়ছে। এসবটাই তাদের স্বাভাবিক শারীরিক এবং মানসিক, বিশেষ করে আবেগীয় ডেভলপমেন্ট বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এক প্রতিবেদন দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী ঘরবন্দি হয়ে আছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী পৌনে দুই কোটির মতো, আর মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী এক কোটির ওপরে। করোনাভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় করে ‘সংসদ টেলিভিশন’ চ্যানেলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এর সম্প্রচার শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এটা পরিচালনা করছে।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...