এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্টঃ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলের চাহিদা বাড়ায় বিদেশ থেকে মাল্টা, কমলা, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের আমদানি বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের এই সময়ে দেশীয় ফল বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ অন্যান্য ফল বাজারে এলেও মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুর ও নাশপাতিরও চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশেই খুচরা বাজারে এ ধরনের ফলের বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে।
আর আমদানিকারকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে লেবুজাতীয় ফলের চাহিদা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই বেড়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ফল খাওয়ার প্রবণতাও আগের চেয়ে বেড়েছে।
কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৮৬৫ কোটি ২১ লাখ টাকায় প্রায় দুই লাখ ১৩ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুর ও নাশপাতি আমদানি হয়েছে।
আমদানি করা ফলের এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯.১৮ শতাংশ বেশি। আর টাকার অংকে আমদানি বেড়েছে ২৩.৩৭ শতাংশ।
২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে ৭০১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় এক লাখ ৭৮ হাজার ৮০৩ মেট্রিক টন ফল আমদানি হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।
গতবছরের শেষে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর তা অন্যান্য দেশে ছড়াতে শুরু করে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় মার্চ মাসের শুরুতে।
এ ভাইরাসের থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে মাল্টা, আপেল, কমলা জাতীয় ফলের বিক্রি অনেকটাই বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, আম-কাঁঠালের মৌসুম চলছে, সে কারণে জুন মাস থেকে মাল্টা, কমলা, আপেলসহ অন্যান্য ফলের চাহিদা কিছুটা কম। তবে এর আগে এসব ফল বেশ বিক্রি হয়েছে।
চট্টগ্রামের ফলের অন্যতম বৃহৎ আড়ত ফলমণ্ডীর ব্যবসায়ী তৌহিদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে মাল্টা ও কমলাজাতীয় ফলের চাহিদা বেড়েছে। আমাদের দেশেও আমদানি বেড়েছে।”
তবে ফল আমদানির জন্য এলসি খুললেই সাথে সাথে সেসব পণ্য দেশে আসে না। গত ছয় মাসে যেসব ফল বন্দর দিয়ে এসেছে তা বিভিন্ন সময়ে করা এলসির বিপরীতে আসা।
তবে মানুষ মাল্টা, আপেল, আঙুর, কমলা, নাশপাতিসহ বিভিন্ন ফল আগের চেয়ে বেশি খাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণেও তা হতে পারে। এ ধরনের ফল বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের দেশে উৎপাদন একেবারেই কম হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি পড়ে।”
বৃহস্পতিবার নগরীর টেরিবাজার এলাকায় খুচরা ফলের দোকানে ঘুরে মাল্টা মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, আঙুর প্রতিকেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, আপেল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, নাশপাতি ১৭০টাকা কেজি, কমলা ২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মহামারী শুরুর আগে মাল্টা ১৩০ থেকে ১৫০, আঙুর ২২০ থেকে ২৩০, কমলা ১৫০ থেকে ১৮০, আপেল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হত বলে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার খুচরা ফলের দোকানদার শাইরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন আমসহ মধু মাসের ফলের সিজন। তারপরও মাল্টা, কমলা ও আপেলের চাহিদা রয়েছে। আম-কাঁঠাল আসার আগে এসব ফল অনেক বেশি পরিমাণে আমরা বিক্রি করেছি। শুনেছি করোনাভাইরাসের জন্য এসব ফল খেলে নাকি কাজ দেয়।”
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে মাল্টা আসে মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। আপেল নিউ জিল্যান্ড, ব্রাজিল, চিলি, চীন ও ভারত থেকে বেশি আমদানি করা হয়। কমলা ভারত থেকে বেশিরভাগ এবং আঙুর চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও ফল আমদানি হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে এক লাখ ২৯ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন আপেল আমদানি হয়েছে। গত বছরে এ সময়ে আমদানি হয়েছিল ৯৩ হাজার ৪৭৮ মেট্রিক টন আপেল।
এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আঙুর আমদানি হয়েছে তিন হাজার ৬৬৬ টন, গত বছরে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৬৫টন।
এ বছর এখন পর্যন্ত নাশপাতি এসেছে পাঁচ হাজার ৫৫৩ টন, গত বছর এ সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৫২ টন।
এছাড়া কমলা আমদানি হয়েছে সাত হাজার ৫২২ মেট্রিক টন, গত বছর এর পরিমাণ ছিল আট হাজার ১৯২ মেট্রিক টন।
এ বছর এখন পর্যন্ত মাল্টা এসেছে ৬৬ হাজার ৬৭৩ টন; গত বছর আমদানির পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ২১৪ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এখন করোনাভাইরাসের সময় চলছে। এছাড়া এর মধ্যে রোজার মাসও গেছে। রোজায় বিভিন্ন ফলের চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। সব মিলিয়ে এ বছর চাহিদা একটু বেশিই ছিল।”
এই সময়ে লেবুজাতীয় ফলের চাহিদা বাড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ফলের চাহিদার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে মেটানো হয়, বাকিটা আমদানি করতে হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

