কাকরাইলে জোড়া খুনের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
Posted by: News Desk
November 4, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর কাকরাইলে চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আল-আমিন ওরফে জনিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ শনিবার ভোরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাবের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তাতির জানানো হবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে রাজমনি প্রেক্ষাগৃহের পশ্চিম পাশে এক বাসায় ঢুকে মা শামসুন নাহার করিম (৪৬) ও ছেলে শাওন করিমের (১৮) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত শামসুন নাহারের ভাই আশরাফ আলী এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ বলা হয়েছে, করিম ও মুক্তার পরিকল্পনায় জনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নিহত শামসুন নাহারের স্বামী আব্দুল করিমের আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে। ছেলে শাওন এ বছর ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মা গৃহিণী।
এর আগে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মা ও ছেলের হত্যার ধরন একই। দুই জনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে শামসুন নাহারের মরদেহ পড়েছিল ছয়তলা বাড়ির পঞ্চমতলায়। ছেলের লাশ পড়েছিল চারতলার সিঁড়ির ওপরে।
প্রতিবেশী শেখ মো. শামীম জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে তিনি চিৎকার শুনে ওই বাসায় যান। তখন সিঁড়িতে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। চারতলায় উঠতেই রক্তাক্ত অবস্থায় শাওনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পঞ্চম তলায় জায়নামাজের পাশে তার মায়ের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বাসায় গৃহকর্মী রাশিদা বেগম ছিলেন। তিনি প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন, মাগরিবের আজানের সময় তিনি বাসায় আসেন। ওই সময় গৃহকর্ত্রী শামসুন নাহার দরজা খুলে দেন। তিনি রান্না ঘরে কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাসার ভেতর শব্দ পেয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে দেখেন বাইরে থেকে রান্না ঘরের দরজা বন্ধ। পরে তিনি চিৎকার দিলে দারোয়ান এসে দরজা খুলে দেয়।
ঘটনার পরপরই রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তারা ঘটনা তদন্ত করছেন। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্ত বা দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন। কেন এমন হত্যাকাণ্ড তা জানতে স্বজনদের বক্তব্য নিচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বাড়ির পঞ্চম তলায় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করলেও অপর তলাগুলো ভাড়া দেওয়া রয়েছে। বাসা থেকে মা-ছেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের খবরে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা বাসা থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। আর সেটার ভিত্তিতে তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তার প্রধান খুনের জোড়া কাকরাইলে 2017-11-04