কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই
Posted by: News Desk
October 18, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় তিনি মগবাজারের নিজ বাসায় তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এর পর দ্রুত তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক মির্জা নাজিম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়। তার মেজর হার্টঅ্যাটাক হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু জানান, রাতে কনসার্ট থেকে ফিরে অসুস্থ বোধ করেন বাচ্চু। তখন তার প্রেসার হাই ছিল। এরপর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন ব্যান্ডদল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান শিল্পী-সাংবাদিক-নাট্য ব্যক্তিত্বসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গণের লোকজন। আকস্মিক এ সংবাদে গুণী এ শিল্পীর স্বজন, সহশিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ষাটের দশকে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যান্ড সংগীতের চর্চা শুরু করেন তিনি। এরপর গান ও গিটারের জাদুতে ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই গায়ক ও সংগীত পরিচালক। গত ১৬ আগস্ট ছিল তার শেষ জন্মদিন।
আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
বাচ্চুর সংগীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠের প্রথম গান- ‘হারানো বিকেলের গল্প’। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।
১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তার জীবনে সফলতা বয়ে না আনলেও ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ তার জীবনে সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।
১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ড গঠনের পর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়।
১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে।
একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়।
‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ তার বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।
২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনও প্রকাশিত। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।
ছয় বছর পর ২০১৫ সালে তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প বাজারে আসে।
গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স ও জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। ঢাকার মগবাজারে ‘এবি কিচেন’ নামে তার নিজস্ব একটি মিউজিক স্টুডিও রয়েছে।
আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে যে কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তার মধ্যে এই গানটি অন্যতম। লিখেছেন জনপ্রিয় গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী।
এ ছাড়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ‘সেই তুমি’, ‘সে তারা ভরা রাতে’, ‘সুখের পৃথিবী’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘আমি বারো মাস তোমার আশাই আছি’, ‘মেয়ে’, ‘আম্মাজান’।
কিংবদন্তি নেই আর সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু 2018-10-18