খুব সহসাই ফাইভজি চালুর চিন্তা করছে সরকার!
Posted by: News Desk
April 2, 2018
এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : খুব সহসাই ফাইভজি চালুর চিন্তা করছে সরকার! যদিও সারা দেশে সব মোবাইল ফোন অপারেটর এখনও ফোরজি সম্পূর্ণভাবে চালু করতে পারেনি। তদুপরি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশকে একধাপ এগিয়ে নিতে ফাইভজি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করতে সদা তৎপর।
আর্থিক দৈন্যদশায় ভুগছে রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। ফলে যথা সময়ে ফোরজি সেবা চলু করতে সক্ষম হয়নি। আজ রবিবার সংসদ সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও চার মাস পর ফোরজি চালু করতে সময় চেয়েছে অপারেটরটি। যদিও চার মাস পরেও তাদের ফোরজি সেবা চালু নিয়ে সন্দিহান কমিটি।
তবে ফোরজি চালুর পর টেলিটক সবার আগে যেন ফাইভজি চালু করতে পারে সে ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নিতে বলেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি। যুক্তি হিসেবে বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা করতে অনেক সময় লাগে; বিনিয়োগ ছাড়া এগিয়ে যাওয়া কঠিন। ফলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সবার আগে ফাইভজি নিয়ে আসতে চায় টেলিটক।
কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন) এবং কাজী ফিরোজ রশীদ বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের ফোরজি কার্যক্রম চালু করার প্রেক্ষিতে টেলিটকের নিজস্ব অর্থায়নে (প্রায় ২০০ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়) বিভাগীয় শহরে ফোরজি সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে ১১০০টি সাইটে ফোরজি ‘ই-নোড বি’ স্থাপন করা হবে। এই সেবা চালু করার লক্ষ্যে বর্তমান ব্যাকবোন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী আগস্টে ফোরজি সেবা চালু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিটিআরসির গঠিত কমিটি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে আসছে। ভিওআইপির অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৮৩টি অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত অবৈধ ভিওআইপি অভিযানের মাধ্যমে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫টি সিম জব্দ করা হয়।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের অনুমোদিত কলরেট সর্বনিম্ন ০.২৫ টাকা থেকে ২.০০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্যাকেজের গড় কলরেট ০.৫৮ টাকা। বাংলাদেশে ২০০১ সালে গড় কলরেট ছিল ৯.৬০ টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ৯.০২ টাকা কমেছে। সর্বোচ্চ ১০ সেসেন্ড পালস চালু করায় মোবাইল গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলতে পারছেন।
এদিকে গত মার্চে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিটিআরসিকে এক নির্দেশনায় বলেন, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর প্রস্তুতি নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ফোরজি সেবা চালুর ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছিল। ফাইভজি চালুর ক্ষেত্রে আর পিছিয়ে পড়া যাবে না। ২০২০ সালের মধ্যে ফাইভজি চালু হবে অধিকাংশ দেশে। তাই ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশেও এই সেবা চালু করতে হবে।
বিটিআরসিকে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সময়োপযোগী অগ্রগতি ছাড়া কোনো দেশ এগোতে পারবে না। তাই উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে মানসম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।
সরকার করছে খুব সহসাই ফাইভজি চালুর চিন্তা 2018-04-02