Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / খুলনায় রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করছেন চেয়ারম্যান

খুলনায় রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করছেন চেয়ারম্যান

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপ উপজেলায় বেড়িবাঁধের অন্তত চার কিলোমিটার রাস্তার পুরোনো ইট তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২০ বছর আগে বেড়িবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৩ নম্বর পোল্ডারে দুই স্তরের (এইচবি) ইটের রাস্তা নির্মাণ করেছিল। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাঁধ উন্নয়নের কাজ চলছে। এ জন্য রাস্তাটির পুরোনো ইট তুলতে হচ্ছে। এসব পুরোনো ইট তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন দাকোপ সদর ইউপির চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ রায়। তাঁর ইউপিতে বেড়িবাঁধের এই রাস্তার দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটারের বেশি। গত বছরের শেষ দিক থেকে ইট তোলা শুরু হয়।

স্থানীয় অন্তত ৩০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান তাঁর অনুসারী এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এসব ইট বিক্রি করছেন। প্রতি হাজার ইট সাড়ে তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এসব ইট অন্য রাস্তা নির্মাণের কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ শুরুর আগে রাস্তার ওই ইট কী করা হবে, তা নিয়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। ইট তুলে তা নিলামে বিক্রি করে উপজেলা রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করে এলজিইডি। কিন্তু কয়েকজন জনপ্রতিনিধির আপত্তির কারণে তা অনুমোদিত হয়নি। তবে প্রতিটি ইউপির নিজস্ব আয় থেকে রাস্তার ইট তুলে অভ্যন্তরীণ রাস্তার সংস্কারকাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুল হক জোয়ারদার গণমাধ্যমকে বলেন, মাসিক সভায় ইউপির অনুমোদন সাপেক্ষে পুরোনো ইট দিয়ে নিজ নিজ ইউপির কাঁচা রাস্তা সংস্কার করার সিদ্ধান্ত হয়।

কয়েকজন শ্রমিকও গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলার ৩৩ নম্বর পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত দাকোপ ইউপির ২, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তায় ইট তোলার কাজ প্রায় শেষ। এসব ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ ফুট চওড়া সিঙ্গেল সোলিং ইটের রাস্তা ছিল। অন্য তিনটি ওয়ার্ড মিলে প্রায় ৪ কিলোমিটার ১২ ফুট চওড়া ইটের রাস্তা। তাঁরা (শ্রমিকেরা) প্রতি কিলোমিটার দেড় লাখ টাকা চুক্তিতে ইট তোলেন। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ইট তোলা হয়। এই ইউপির বেড়িবাঁধের রাস্তায় সাড়ে ১০ লাখের বেশি ইট রয়েছে।

কম দামে বিক্রির পাশাপাশি ইউপির কয়েকটি নতুন ইট বিছানো রাস্তার প্রকল্পেও পুরোনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিখিল সরদার ছিটেবুনিয়া এলাকায় প্রায় ৩৭৪ ফুট রাস্তা পুরোনো ইট বিছিয়ে দিয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বলাই কৃষ্ণ মণ্ডলও একটি প্রকল্পের জন্য চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পুরোনো ইট কিনেছেন।

ইউপি সদস্য নিখিল সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ওই ইট (পুরোনো) দিয়েই রাস্তা করতে বলেছেন, এ কারণে করছি।’

এদিকে ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাজুয়া সেতুর নিচ থেকে শ্মশানকালী নতুন হাটখোলা (বাদুড়ঝুলি) পর্যন্ত ছয় ফুট চওড়া সোয়া এক কিলোমিটারের বেশি রাস্তায় পুরোনো ইট বিছানো হয়েছে। তবে ওই রাস্তা করার জন্য ইউপিতে কোনো প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধভাবে পুরোনো ইট বিক্রিতে মানুষ যাতে সন্দেহ করতে না পারে, সে জন্য ওই রাস্তার কাজ করা হয়েছে। রাস্তা করতে যত ইট লাগার কথা, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ইট এনে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাস্তার পুরোনো ইট বিভিন্ন বাড়িতে আছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত সাতটি বাড়িতে রাস্তা থেকে আনা ইটের স্তূপ দেখা গেছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানের অনুসারী খোকন ঘরামির বাড়িতেও প্রচুর ইট স্তূপ করে রাখা আছে।

ইট বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো ইটই বিক্রি করা হয়নি। অনেক ইট চুরি হয়ে গেছে। যেহেতু ইউনিয়নের লোকবল কম, এ কারণে ওই ইট উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। খোকন ঘরামির বাড়িতে ইট থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওগুলো ভাঙা ইট।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...