এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জরুরি তলব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ভারত থেকে দেশে ফেরার থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ড. আতিউর রহমানের জন্য অপেক্ষা করছেন জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘তিনি (আতিউর রহমান) ফিরলে বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এরপরই গভর্নরকে তলব করেন তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুহিত জানান, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, ‘ডেফিনেটলি দেয়ার উড বি চেঞ্জেস। এত বড় একটা সিরিয়াস ব্যাপার। আই টেক ইট ভেরি সিরিয়াসলি।’
এ সময় মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গর্ভনর আতিউর রহমানের জন্য অপেক্ষা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম ওয়েটিং ফর আতিউর। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব বলেছিলাম, আলোচনা আমার হয়ে গেছে।’
তবে গর্ভনরের সঙ্গে কখন কথা বলবেন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আজও হতে পারে, কালও (মঙ্গলবার) হতে পারে। কারণ সে কখন আসবে-তার কোনো ঠিক নাই।’
গভর্নর ড. আতিউর রহমান চার দিনের ভারত সফর শেষে আজ সোমবার বিকালে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান।

তবে দেশে ফেরার পর বিকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে গর্ভনরের বৈঠক হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিকালে বৈঠক আছে কি না সে ব্যাপারে কিছু জানি না।’
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়।
ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। কিন্তু, দেশে তিনি এই ঘটনা চেপে যান।
এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়।
পরে গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকার করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করে, দেশের বাইরে থেকে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে। কিন্তু,সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যেভাবে টাকা চুরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

