Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গ্যারাকলে সরকার

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গ্যারাকলে সরকার

এমএনএ রিপোর্ট : গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে সরকার পড়েছে গ্যারাকলে। একদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে অন্যদিকে গ্রাহক শ্রেণির ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে। এ অবস্থার মধ্যেই সব শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আজ রবিবার সকালে কারওয়ানবাজারে টিসিবি ভবনের মিলনায়তনে এই শুনানি চলছে।

সূত্র জানায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানিতে আজ প্রথম দিনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির (জিটিসিএল) সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানি হচ্ছে। গ্যাস খাতের বিভিন্ন কোম্পানির দেওয়া দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর এই গণশুনানি পর্যায়ক্রমে চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত।

সরকারি এই কোম্পানিটি প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন বাবদ বর্তমান কমিশন দশমিক ১৫৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে দশমিক ৪২১৩ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম, পেট্রোবাংলার সাবেক কর্মকর্তা সালেক সুফী, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রমুখ। গ্যাসের দাম শিল্প-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের কাছে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য তাঁরা সবাই বিইআরসির কাছে অনুরোধ করেন।

Gas-Burner-2জানা গেছে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানিতে গ্রাহকভেদে ১০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো।বর্তমানে এক চুলার মাসিক বিল ৬০০ টাকা এবং দুই চুলা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো। এর আগে গত বছর আগস্টে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল, যা গত সেপ্টেম্বরে কার্যকর হয়। এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টার প্রতিবাদে বিইআরসির সামনে বিক্ষোভ করছে গণসংহতি আন্দোলন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং শিল্পে বয়লারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৮ আগস্ট তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১০ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১১ আগস্ট বাখরাবাদ গাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৪ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৬ আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ১৭ আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকার পড়েছে গ্যারাকলে। একদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ এবং বিদ্যমান গ্যাস বিক্রি থেকে আহরিত রাজস্ব (সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি বা সম্পূরক শুল্ক ও মূসক) গ্যাস খাতেই ব্যয় করার পূর্বসিদ্ধান্ত বাতিল করায় দাম বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাবও অনিবার্য।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলার সূত্র বলেন, ১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত গ্যাস বিক্রির অর্থ থেকে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (বিক্রিত অর্থের মোট ৫৫ শতাংশ) সরকারি কোষাগারে যেত। ১৯৯৮ সালে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) অধীনে দেশের কয়েকটি গ্যাস ক্ষেত্রে কর্মরত বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে গ্যাস কেনা শুরু হয়। ফলে সরকারকে রাজস্ব হিসেবে ৫৫ শতাংশ অর্থ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে গ্যাস কেনা এবং ক্রয়মূল্য থেকে কম দামে বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তখন পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বিষয়টি সরকারি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, সরকার যদি গ্যাস বিক্রির অর্থ থেকে ৫৫ শতাংশ রাজস্ব না নেয় তাহলে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে বিক্রির চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা সম্ভব। সরকার তখন ওই ৫৫ শতাংশ রাজস্ব না নিয়ে গ্যাস খাত পরিচালনায় তা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত দেয়। সেভাবেই এই কার্যক্রম চলছিল।

Gas-Burnerগত বছরের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেট্রোবাংলাকে এক চিঠিতে জানায়, যেহেতু গ্রাহকের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব হিসেবেই ওই ৫৫ শতাংশ অর্থ নেওয়া হচ্ছে সেহেতু তা সরকারি কোষাগারে দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ১৯৯৮ সাল থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব দেওয়া হয়নি তা-ও সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

পেট্রোবাংলা এবারও সরকারি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করে। এবার সরকার আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ওই ৫৫ শতাংশ অর্থ রাজস্ব হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। সে অনুযায়ী পেট্রোবাংলা গত এপ্রিল থেকে ওই রাজস্ব এনবিআরকে দিচ্ছে। এখন পেট্রোবাংলার কাছে বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে বিক্রি করার মত অর্থ নেই।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের শুরু থেকেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হলে গ্যাসের ক্রয়মূল্য আরও বাড়বে। এই অবস্থায় গ্যাস খাতের সব কোম্পানি গত নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে বিইআরসিতে সব গ্রাহকশ্রেণির জন্যই গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

তাতে গৃহস্থালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই চুলার জন্য মাসিক বিল ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া, এক চুলার জন্য ১ হাজার টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম ৬৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম হবে প্রায় ৫৮ টাকা হবে যা বর্তমানে ৩৫ টাকা। অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তারা শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে এবং জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছেন।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরূপ প্রভাব নিয়ে সরকারও ভাবছে। তবে না বাড়িয়ে কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না।

এর আগে, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবাসিকসহ কয়েকটি শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। তখন দুই চুলার বিল ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ এবং এক চুলার বিল ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছিল। আর সব গ্রাহকশ্রেণির গ্যাসের দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।

 

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...