এমএনএ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা নেতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে তিনি নিহত হন।
তাঁর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তী সময়ে তিন দফায় সরকারপ্রধান ছিলেন।
পরবর্তীতে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তাঁদের ছেলে তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসায় জিয়া পরিবার বিশ্বের সেই রাজনৈতিক পরিবারগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যাদের তিন সদস্য রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারত: নেহরু–গান্ধী পরিবার
ভারতের স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু। স্বাধীনতা আন্দোলন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক।
তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী দুই দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
ইন্দিরার পুত্র রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং ভারতের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পাকিস্তান: ভুট্টো–জারদারি পরিবার
পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট ও পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কন্যা বেনজির ভুট্টো মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং দুই দফায় সরকারপ্রধান ছিলেন।
বেনজিরের স্বামী আসিফ আলী জারদারি দুই দফায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শ্রীলঙ্কা: বন্দরানায়েকে পরিবার
শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে বন্দরানায়েকে পরিবার ঐতিহাসিকভাবে প্রভাবশালী। এস.ডব্লিউ.আর.ডি. বন্দরানায়েকে ১৯৫৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন।
তাঁর স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরানায়েকে ১৯৬০ সালে বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন।
তাঁদের কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রধানমন্ত্রী ও পরে রাষ্ট্রপতি—উভয় পদেই দায়িত্ব পালন করেন।
থাইল্যান্ড: সিনাওয়াত্রা পরিবার
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সিনাওয়াত্রা পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ। থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন।
তাঁর বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
পরবর্তীতে পরিবারের আরেক সদস্য পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেন।
উত্তর কোরিয়া: কিম পরিবার
উত্তর কোরিয়ায় একই পরিবারের তিন প্রজন্ম রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সাং-এর পর তাঁর ছেলে কিম জং-ইল এবং বর্তমানে নাতি কিম জং-উন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রিস: পাপানড্রেউ পরিবার
গ্রিসে জর্জিয়াস পাপানড্রেউ, তাঁর ছেলে আন্দ্রেয়াস পাপানড্রেউ এবং নাতি জর্জ পাপানড্রেউ—তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র: বুশ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে বাবা–ছেলে দুজনই প্রেসিডেন্ট ছিলেন—জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ. বুশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিরল নয়। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বহু দেশে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব উদাহরণ দেখায়, ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক ঐতিহ্যও অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

