Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১৩ লাখ শিশু

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১৩ লাখ শিশু

এমএনএ রিপোর্ট : দেশে শিশুশ্রম নিরসনে বাধ্যতামূলক শিক্ষা ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেছেন, এখনো দেশের প্রায় ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে, যা নিরসন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো। এছাড়া শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন: প্রেক্ষাপট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইসলামি রিলিফের সহায়তায় এই সেমিনারের আয়োজন করে ২৬৭টি শিশু সংগঠনের মোর্চা সংগঠন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শিশুশ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। অথচ বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্যই শিশুশ্রম শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে দেশের সরকার প্রধান শিশুশ্রম নিরসনে ব্যাপক আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তৎপর না হলে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন। সরকারের উচিত যেসব এনজিওর সততা, আন্তরিকতা, অভিজ্ঞতা ও ট্র্যাক রেকর্ড পরীক্ষিত, তাদেরকে শিশুশ্রম নিরসনের কাজে সমপৃক্ত করা। তিনি গৃহে শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা ও তাদের সুরক্ষায় একটি আলাদা আইন জরুরি বলে মত দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটওয়ারী বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিশুশ্রম নিরসনের জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষার ধাপ আরো বাড়াতে হবে। সরকারের উচিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় শিশুশ্রম নির্মূলকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া কাজের মধ্যে রাখা। এছাড়া তিনি মাদক আইনে শিশুদের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, সরকার দেশের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে অত্যন্ত আন্তরিক ও ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও তার অগ্রগতি কী অবস্থায় আছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি ২০১৬ সালে সমাপ্ত শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এর বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে জোর দেন।

সেমিনারে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক। আরো বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের পরিচালক ড. আবুল হোসেন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আকমল শরিফ প্রমুখ।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...