এমএনএ রিপোর্ট : বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের প্রতি আইনি কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত একজন সচিবের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানান।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই ছবির ঘটনায় বরগুনার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (তৎকালীন) যে পত্র দিয়েছিলেন, সেটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তারিক সালমনের বিরুদ্ধে কোনো দোষ না পাওয়ায় সেটি খারিজ করে নথিজাত করা হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও
বিচার বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন করে প্রতিনিধি। আগামী ১৫ দিনের মধ্য কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গত ২২ জুলাই পাঁচ সদস্যর এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গাফিলতি আছে কি না, সেটা দেখা হচ্ছে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।
তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বিকৃত’ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি (পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা ছবি) ছাপানোর অভিযোগে গত ৭ জুন মানহানির মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই তারিক সালমন আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। একই বিচারক দুই ঘণ্টা পর ইউএনও তারিকের জামিন মঞ্জুর করেন।
তারিক সালমন জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশুদিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিশুর আঁকা দুটি ছবি ব্যবহার করে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।
এর উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি শিশুদের ভালবাসা সৃষ্টি এবং ছবি আঁকার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলা।
আদালত প্রাঙ্গনে ইউএনও তারিককে পুলিশ ধরে নেওয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা এবং জনপ্রশাসনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে তার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ছবিতে বিকৃত করার মতো কিছু তারা দেখেননি বরং এটি একটি ‘সুন্দর কাজ’, রীতিমত ‘পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য’।
এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলার বাদী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তারিক সালমনকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকেও শনিবার সরিয়ে দেওয়া হয়।
সারা দেশে সমালোচনা ও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর রোববার বরিশালের হাকিম আদালতে হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
তিনি বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে’ এ ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুর ছবিটি এক শিশুর আঁকা এ কথা তার জানা ছিল না।
ইউএনও তারিক সালমন বলে আসছেন, ঘটনার দিন প্রথমে জামিন না মঞ্জুর করার পর তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা কোর্ট হাজতে আটক রাখা হয়েছিল। কিন্তু বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মোহাম্মদ আলী হোসাইন ওই মামলার নথিসহ যে ব্যাখ্যা গত রবিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পাঠিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে, ইউএনওর জামিন আবেদন একটিবারের জন্যও নামঞ্জুর হয়নি।
স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রের এ ছবির ঘটনা নিয়ে আদালতের আগে গত এপ্রিলে প্রশাসন ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা বরিশালের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এ জন্য প্রথমে তারিক সালমনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। তারিক নোটিশের জবাবও দেন। পরে এই জবাব পাঠানো হয় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার নোটিশ সন্তোষজনক নয় মর্মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সেটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান।
গত ৩ এপ্রিল বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান গাজী তারিক সালমনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। আর বিভাগীয় কমিশনার ১৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র দেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

