Don't Miss
Home / ব্যবসা ও বাণিজ্য / দামে ও চাহিদায় গরম মসলার বাজার সরগরম

দামে ও চাহিদায় গরম মসলার বাজার সরগরম

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : দেখতে দেখতে চলে এলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব কোরবানির ঈদ। দরজায় কড়া নাড়ছে। ক্রমে জমে উঠছে গবাদিপশুর হাট-বাজার। সেই সঙ্গে দামে ও চাহিদায় সরগরম হয়ে উঠেছে গরম মসলার বাজার। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বনেদি গৃহস্থরা গোটা মরিচ, ধনিয়া, হলুদ আর গরম মসলা কিনে ধুয়ে, মুছে রোদে শুকিয়ে কলঘরে পাঠাতে শুরু করেছেন।

ফলে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস মার্কেটসহ পুরো এলাকাই এখন কুলি, মজুর, ব্রোকার আর খুচরা দোকানিদের হাঁকডাকে মুখর। আমদানিকারকের কাছ থেকে মসলাভর্তি কার্টন আর বস্তা কেনাবেচায় ব্যস্ত সেকেন্ড পার্টি, পাইকার, ব্রোকার ও আড়তদাররা।

ইলিয়াস মার্কেটের মসলা পণ্যের অন্যতম আমদানিকারক জেএইচ ট্রেডার্সের পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ আলম জানান, দু’সপ্তাহ আগে গরম মসলার বাজার চড়া ছিল। বিশেষ করে আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে বিদেশি মসলা পাইপলাইনে থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া তখন বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার পাইকারি ক্রেতারা একসঙ্গে গরম মসলা কিনতে থাকায় বাজারে চাপ ছিল।

মোরশেদ জানালেন, দু’সপ্তাহ আগে চীন থেকে আমদানি করা যে দারুচিনি ২২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল আজকের (মঙ্গলবার) তা বিক্রি হচ্ছে ২১০-২১৫ টাকা। আগে আমেরিকার যে এলাচি ৯৮০ টাকা বিক্রি হয়েছিল তা এখন ৮৮০-৯১০ টাকা। দরদাম নির্ভর করছে মজুদ, সরবরাহ, বন্দর বা পাইপ লাইনে থাকা মসলা বাজারে আসার সময়, মসলার কোয়ালিটি ও কালারের ওপর।

প্রায় অপরিবর্তিত আছে কিছু মসলার দাম। এর মধ্যে সিরিয়ার চিকন জিরা ৩১০-৩১৫ টাকা, ভারতের চিকন জিরা ৩১৫ টাকা, ইন্দোনেশিয়ার লবঙ্গ (লং) ৮৫০-৮৮০ টাকা, ভিয়েতনাম ও কলম্বোর কালো (গোল) মরিচ ৮১০-৮১৫ টাকা, ভারত, পাকিস্তান ও মিশরের মিষ্টি জিরা (মোটা) ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খান ব্রাদার্সের মো. আলমগীর জানালেন, বর্তমানে গোটা মরিচের মধ্যে প্রতিকেজি পঞ্চগড় মোটা ১২৮ টাকা, ভারতের মোটা ১৬০ টাকা, রায়পুরি ১৩৫-১৪০ টাকা, কুমিল্লার চিকন ১৩৮ টাকা, পঞ্চগড় বৃন্দ ১৪০ টাকা, হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিকেজি দেশি গোটা হলুদ ১২৮ টাকা, ভারতের ১১৩-১১৪ টাকা, ধনিয়া ৪৮-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে গরম মসলার দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। পরিমাণে কম কেনার কারণে খুচরা ক্রেতাদের কাছ থেকে দোকানিরা মসলার অস্বাভাবিক দাম নিয়ে থাকেন বলে জানালেন পাইকাররা।

খাতুনগঞ্জ ছেড়ে বকশিরহাট বাজারের দিকে আসতেই মূল সড়কেই অনেক খুচরা বিক্রেতা গরম মসলার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। তাদেরই একটি শান্তি ভূষণ দত্ত স্টোর। দোকানি টিটু দেবনাথ জানালেন, প্রতিকেজি এলাচি ১ হাজার ৮০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ১০০ টাকা, দারুচিনি ২৮০-৩৮০ টাকা, চিকন জিরা ৩৬০-৪০০ টাকা, মিষ্টি জিরা ১৬০ টাকা, গোটা হলুদ ১৩০ টাকা, গোটা ধনিয়া ৮০ টাকা, জায়ফল ৬৮০ টাকা, জয়ত্রী ১ হাজার ২৫০ টাকা, গোলমরিচ ৯৮০ টাকা, চীনা বাদাম ১০০, কাজুবাদাম ৯৬০ টাকা, মেথি ৮০ টাকা, তেজপাতা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, কোরবানিকে ঘিরে গরম মসলার দাম আগেই কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছিল। এখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হচ্ছে পাইকারির তুলনায় খুচরায় মাত্রাতিরিক্ত বেশি দাম নেওয়া হলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই। গ্রাহকদের জিম্মি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়াটা আমাদের কিছু ব্যবসায়ীদের মজ্জাগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ ভ্রাম্যমাণ আদালত ততক্ষণই বাজারে দাম সহনীয় থাকে। এভাবে একটি স্বাধীন দেশে নৈরাজ্য চলতে পারে না।

মসলার আমদানিকারক ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে চোরাইপথে মসলা এসে বাংলাদেশের বাজার সয়লাব হয়ে যেত। এবার তেমনটি হয়নি। তবে ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে মসলা ব্যবসায়ীরা যে লোকসান দিয়েছেন তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ব্যাংকঋণের কারণে অনেকে দেউলিয়া হয়েছেন।

তিনি বাংলাদেশে মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সীমান্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি মসলা আমদানিতে শুল্কহার কমানোর দাবি জানান। এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ভারতে যেখানে মসলা আমদানিতে ১৫ শতাংশ, মায়ানমারে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেখানে বাংলাদেশে ৬৪ থেকে ১০০ শতাংশ দিতে হয়।

x

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিমানবন্দরে ঝামেলাহীন প্রবেশ ব্যবস্থার দাবি ব্যবসায়ীদের

এমএনএ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ...