সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক ধারা লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠছে। এতে সাধারণ মানুষ আশান্বিত যে, অনেক দেরীতে হলেও দেশের রাজনীতি প্রত্যাশিত পথে এগোচ্ছে।
গত বছরও ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছিল প্রধান দুটি দল। সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় বিএনপি লাগাতার হরতাল-অবরোধের ডাক দেয়। তারপর দেশব্যাপী যে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা কারো অজানা নয়। পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তাই এ বছরও ৫ জানুয়ারিতে দুই পক্ষই যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। প্রশ্ন জাগে, আবারও কি সেই ভয়ংকর দিনগুলোয় ফিরে যাবে দেশ? আগের মতোই পুলিশ কোনো পক্ষকেই সমাবেশের অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। দলগুলোর মধ্যেও শুভবুদ্ধির উদয় হয়। তারা নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চায়। শান্তিশৃঙ্খলা বিপন্ন হবে না এমন আটটি শর্তে পুলিশ অনুমতি দেয়। দলগুলোও তা মেনে নেয়। ঘাম দিয়ে জ্বর সারার মতোই মানুষ কিছুটা আতঙ্কমুক্ত হয়। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আবার মনে মনে বলে, দলগুলো কথা রাখবে তো! প্রচলিত রাজনীতির প্রতি জনগণের এমন আস্থাহীনতা ও বিচ্ছিন্নতা শুধু রাজনীতির জন্য নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। আমাদের রাজনীতিবিদদের সেই দিকটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ। গণতন্ত্রের মূলকথাও তা-ই। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, তাদের কল্যাণে কাজ করা এবং সব কাজে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। সেখানে একগুঁয়েমি, সংঘাত, সহিংসতার কোনো স্থান নেই। জনজীবন বিপন্ন বা বিপর্যস্ত হয় এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের রাজনীতি এখনো তার আসল অবয়ব অর্জন করতে পারেনি। তাই রাজনীতি প্রায়শ চূড়ান্ত ধরনের জনদুর্ভোগে পরিণত হয়। জনগণকে সমূহ বিপদের আশঙ্কায় থাকতে হয়। ৫ জানুয়ারি ঘিরে সৃষ্টি হওয়া তেমন আশঙ্কা থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ায় দুই পক্ষকেই সাধুবাদ জানাই।
আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও দেশে জনগণকে জিম্মি করে কোনো রাজনীতি হবে না এবং রাজনীতির সব পক্ষ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধগুলো মেনে চলবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বহু দল থাকবে, বিরোধ থাকবে, ভিন্নমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে এবং এসব থাকাটাই স্বাভাবিক। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করতে হবে। সরকারি দল কখনো বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে না। আবার বিরোধী দলও সরকারকে টেনে নামানোর জন্য জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে চলে যাবে না। এখানে কোনো পক্ষ গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে গেলে কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিলে তা জনগণের কাছেই তুলে ধরতে হবে এবং জনগণই চূড়ান্ত বিচারে তার ফয়সালা দেবে। কোনো অজুহাতে শক্তি প্রয়োগের পথে যাওয়া যাবে না। আমরা আশা করি, সরকারি ও বিরোধী পক্ষ কেউই অদূর ভবিষ্যতে এমন কিছু করবে না, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে প্রত্যাশিত নয়।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


