এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব অনুমিতভাবেই পাকিস্তানের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের উত্তরসূরি হিসেবে আসছেন তার ছোটভাই শাহবাজ শরিফ।
এদিকে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল)-এনের নেতা, দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী শহীদ খোকন আব্বাসির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে নওয়াজ শরিফের সভাপতিত্বে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শহীদ খোকন আব্বাসি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বাকি। খবর ডনের
বৈঠকে পিএমএল-এনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে পদচ্যুত নওয়াজের ছোট ভাই পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সমর্থনে দলীয় সমাবেশেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন এক প্রতিবেদনে বলছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শহীদ খোকন আব্বাসিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাব করেছে পিএমএল-এন। পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আসনে উপ-নির্বাচনে শাহবাজ নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিবেসে দায়িত্ব পালন করবেন শহীদ খোকন আব্বাসি।
দৃশ্যত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত শাহবাজ শরিফের হাতেই যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল)-এনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এককভাবে ভোটাভুটির মাধ্যমেও
তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পারে দলটি। তবে নওয়াজ শরিফের শূন্য জাতীয় পরিষদের আসনেও লড়তে পারেন তিনি, এই আসন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন’র শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
শাহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী দলীয় সমর্থন দেয়ায়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে তাকে। একই সঙ্গে পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও একজনকে বেছে নিতে হবে। ডন বলছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রদেশের আবগারি ও শুল্ক মন্ত্রী মুজতবা সুজাউর রেহমান শাহবাজের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
গতকাল শুক্রবার পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার কিছু সময় পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। এরপরই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সে আলোচনায় বারবার এসেছে নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফের নাম। আজ শেষ পর্যন্ত তার নামই চূড়ান্ত করা হয়।
শাহবাজ শরিফের জন্ম ১৯৫১ সালে লাহোরে। সেখানের একটি সরকারি কলেজে স্নাতক পাশ করেন। ব্যাবসায়িক পরিবার থেকে উঠে আসা শাহবাজ কিন্তু প্রথম জীবনে ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৮৫ সালে লাহোরের চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হন।
তার রাজনৈতিক জীবন শুরু পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির একজন সদস্য হিসাবে। ১৯৮৮-৯০ সালে অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-৯৩ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব সামলান তিনি। এরপর তিনি সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে ২০০৭ সালে পাকিস্তানে ফিরে আসেন। ২০০৮ সালে যখন সাধারণ নির্বাচন হয়, শাহবাজ ভোটে জিতে ফের ক্ষমতায় আসেন। দেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানে তিনি মুখ্য ভূমিকা নেন। তৃতীয়বারের জন্য ২০১৩ সালে আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৮ সাল থেকে পাঞ্জাবের দায়িত্বে থাকা শাহবাজ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে মনোযোগ দিয়ে দক্ষ শাসকের খ্যাতি অর্জন করেছেন; সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাইয়ের চেয়ে ভালো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

