Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২২৫ কোটি টাকা

নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২২৫ কোটি টাকা

এমএনএ রিপোর্ট : বর্তমান সরকারের সময় লাইসেন্স পাওয়া নয় বাণিজ্যিক ব্যাংকই অব্যবস্থাপনায় ডুবতে বসেছে। লাভ দূরের কথা তিন বছরের মাথায় এসব ব্যাংকের দায় বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণই প্রায় ২২৫ কোটি টাকা। প্রতি বছরই তা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা থাকায় এবং প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে কিছু ব্যাংক আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে। অথচ কার্যক্রমে আসার মাত্র তিন বছরের মাথায় খেলাপি ঋণের কবলে পড়েছে এসব ব্যাংক। এতে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশংকা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

BB22বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নতুন ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ২২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের ৮০ কোটি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৪০ কোটি ৪২ লাখ, মেঘনা ব্যাংকের ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ১৩ কোটি ৬৮ লাখ, এনআরবি ব্যাংকের ১৩ কোটি ১৮ লাখ, মধুমতি ব্যাংকের ১২ কোটি ৫৩ লাখ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ৭ কোটি ৯০ লাখ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ২ কোটি ৭৫ লাখ ও ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৫ লাখ টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি টাকায়। ফারমার্স ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন একেএম শামীম। বর্তমানে ব্যাংকের ৪৩টি শাখা রয়েছে। মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সহধর্মিণী ড. সিতারা আলমগীরও ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন কিছুদিন। এরই মধ্যে কয়েক ধাপে ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, গুলশান, মতিঝিল, শ্যামপুরসহ বেশ কয়েকটি শাখায় বড় ধরনের অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে। এতে ৫৫০ কোটি টাকার মতো অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে কারণে ব্যাংকের মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, নতুন আসা কয়েকটি ব্যাংক অনিয়মে জড়িয়েছে। অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

Black-Money-2মন্দ ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। ব্যাংকটির ৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই ব্যাংকের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের এই ব্যাংকের এমডির দায়িত্বে আছেন দেওয়ান মুজিবুর রহমান। কিছুটা অনিয়ম আর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ব্যাংকটিকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ব্যাংকের ভেতরে ব্যাপক কাদা ছোড়াছুড়ির অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৪৩টি শাখা রয়েছে। চলতি মাসে ২টি শাখা খোলা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খোলা হবে আরও ৫টি শাখা। সব মিলিয়ে বছর শেষে সারা দেশে ৫৫টি শাখায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এনআরবিসিবির বর্তমান গ্রাহক রয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী বলেন, কোনো ঋণ ৬ মাস অতিক্রম করেনি। দু-এক মাসের মধ্যে ঋণ সমন্বয় হয়ে যায়। ব্যাংক ব্যবসা ভালো চলছে দাবি করে তিনি বলেন, চলতি বছরে ব্যাংকের ৫৫তম শাখা উদ্বোধন করা হবে।

খেলাপি ঋণের তৃতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে মেঘনা ব্যাংক। নতুন সব ব্যাংকের আগে ব্যাংকটি খেলাপি ঋণের জালে ঢুকে। এরপর থেকে ক্রমশই বাড়া ছাড়া আর কমেনি মন্দ ঋণ। বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের এই ব্যাংকের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও রংপুরের সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ নুরুল আমিন। ব্যাংকের শাখা রয়েছে ২৭টি।

New-Bankমিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মালিকানায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়কর উপদেষ্টা এম মনিরুজ্জামান খন্দকার নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্বে আছেন আহসান-উজ জামান। এখন পর্যন্ত ব্যাংকের ২০টি শাখা খোলা হয়েছে।

এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইকবাল আহমেদ ওবি হলেও বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ২০ জন। শাখা খোলা হয়েছে ২১টি। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্বে আছেন মুখলেছুর রহমান।

মধুমতি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি রয়েছে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ১৯ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে ব্যাংকটির মালিকানায়। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পেলেও ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন হুমায়ূন কবির। প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিজানুর রহমান। কিছুদিন আগে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে এমডির দায়িত্বে আছেন শফিউল আজম। এখন পর্যন্ত ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে ২০টি।

ঋণ খেলাপি সম্পর্কে জানতে চাইলে মধুমতি ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, যেসব ঋণ খেলাপি ছিল তার বেশির ভাগ ফেরত বা সমন্বয় করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের মালিকানায় রয়েছে ব্যাংকটি। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নিজাম চৌধুরী। ২৬টি শাখা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে Black-Moneyএনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্বে আছেন প্রশান্ত কে হালদার।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৪৭টি শাখা খোলা হয়েছে। আরও ৭টি শাখা চলতি বছরে খোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

এই ব্যাংকের মালিক ২০ জন। সাউথ বাংলা ব্যাংকের বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এসএম আমজাদ হোসেন। এমডির দায়িত্ব পালন করছেন মো. রফিকুল ইসলাম। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, যে ঋণ খেলাপি হয়েছে এখন পর্যন্ত তা ফেরত আসেনি। ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৫ লাখ টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে। নতুন ৯ ব্যাংকের মধ্যে এটিই একমাত্র ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি নানা কারণে আলোচিত। একদিকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী অন্যদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই ব্যাংকের অংশীদার। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ১৩ জন। ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন শহিদুল আলম। এই ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিয়া। সারা দেশে ৪৯টি শাখা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিয়ন ব্যাংক।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...