Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / নায়ক রাজকে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদ মিনারে

নায়ক রাজকে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদ মিনারে

এমএনএ বিনোদন রিপোর্ট : সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মরদেহ রাখা হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালে হিমঘর থেকে নায়করাজের মরদেহ নেওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার।

তিনি বলেন, সকালে এফডিসিতে মি. রাজ্জাকের একটি জানাজা করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে নিশ্চিত হলে তারা মরদেহ এফডিসিতে নেবেন।

তবে মরদেহ এফডিসিতে নেয়া হলেও সেখানে প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ মি. রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বাসার পার্শ্ববর্তী গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

জানাজা শেষে মি. রাজ্জাকের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে বনানী কবরস্থানে। তবে নায়করাজের ছেলে বাপ্পি দেশের বাইরে থাকায় জানাজা ও দাফনে বিলম্ব হতে পারে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ ও কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি পাঁচ সন্তানসহ, অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত, অনুসারী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজ্জাক ১৯৪২ সালে ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সিনেমায় ‘নায়করাজ’ উপাধি পেয়েছিলেন তিনি।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি তিনি চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। সত্তরের দশকে তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। তিনি একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।

আখেরি স্টেশন, বেহুলা, আগুন নিয়ে খেলা, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, জীবন থেকে নেয়া, নাচের পুতুল, অশ্রু দিয়ে লেখা, ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ, আলোর মিছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর আরও চারবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পান। এছাড়া ইন্দো-বাংলা কলা মিউজিক পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার, ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র আজীবন সম্মাননা, ইফাদ ফিল্ম ক্লাব পুরস্কার পান তিনি।

নায়করাজের মৃত্যুর খবর শুনে ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যান নায়ক আলমগীর, ফেরদৌস, ওমরসানি, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও চলচ্চিত্র জগতের কলাকুশলীরা।

রাষ্ট্রপতির শোক

নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয়তা অর্জনে নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাঙালি সংস্কৃতি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মরণ করবে।’ রাষ্ট্রপতি রাজ্জাকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের অবদানের কথা স্মরণ করে এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র।’ শেখ হাসিনা নায়করাজের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এক নজরে নায়করাজ রাজ্জাক

নাম: আবদুর রাজ্জাক।

উপাধি: নায়করাজ।

জন্ম: ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪২।

জন্মস্থান: নাকতলা, দক্ষিণ কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ভারত।

বাবা: আকবর হোসেন।

মা: নিসারুননেছা।

জাতীয়তা: বাংলাদেশি।

স্ত্রী: খাইরুন্নেছা (লক্ষ্মী বলে ডাকতেন রাজ্জাক)।

সন্তান: বাপ্পারাজ (রেজাউল করিম), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না, খালিদ হোসেইন সম্রাট।

পেশা: অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক।

অভিনয়ের শুরু: কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্বরসতী পূজায় মঞ্চ নাটকে।

সিনেমায় প্রবেশ: কলেজ জীবনে ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়া কলকাতায় ‘পঙ্কতিলক’ ও ‘শিলালিপি’ নামে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন।

বাংলাদেশে আগমন: ১৯৬৪ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময়।

ঢালিউডে নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র: জহির রায়হানের বেহুলা।

প্রথম নায়িকা: সুচন্দা।

জুটি হিসেবে জনপ্রিয় নায়িকা: শাবানা ও কবরী।

নায়ক হিসেবে শেষ ছবি: ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। শেষ ছবি ‘মালামতি’। নায়িকা ছিলেন নূতন।

চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয়: ১৯৯৫ সাল থেকে।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র : ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নাচের পুতুল’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘আবির্ভাব’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ’বাবা কেন চাকর’।

পুরস্কার ও সম্মাননা : ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। অর্জন করেন একাধিক সম্মাননা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, বাচচাস পুরস্কারের ভূষিত হয়েছেন নায়করাজ। এছাড়াও, রাজ্জাক জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।

শুভেচ্ছা দূত: জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল।

x

Check Also

২০২৭ থেকে ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বই, জিপিএতে নম্বর যোগ না হলেও পাস বাধ্যতামূলক

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে, মূল্যায়নের মুখোমুখিও হবে; তবে সেই নম্বর বার্ষিক ফলাফল বা ...