Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচ জেলায় নিহত ১১

নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচ জেলায় নিহত ১১

এমএনএ রিপোর্ট : ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতায় এবং ভোট জালিয়াতির মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৭১২ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে পাঁচ জেলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন আট শতাধিক মানুষ।

দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। দিনের শুরুতে কিছু এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে বিরোধী প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জালভোট দেয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়।

Union Parisad Nirbachon

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুজন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আবুল কাসেম সিকদার নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন।

এছাড়াও পটুয়াখালীর বাউফলে গত সোমবার প্রতিপক্ষের হামলায় আহত নৌকা মার্কার সমর্থক হুমায়ুন মল্লিক মারা গেছেন। নেত্রকোনায় ভোট গণনার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা জোর করে ভোট কেন্দ্রের ভেতর ঢুকতে চাইলে পুলিশের গুলিতে প্রার্থীর ছোট ভাই কাওসার নিহত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে ফল ঘোষণার পর সংঘর্ষে এক নারী নিহত হন।

এ ছাড়া বরিশালের বানারিপাড়ায় অসাবধানতাবশত নিজের রাইফেলের গুলিতে প্রাণ যায় এক আনসার সদস্যের।

এদিকে নির্বাচনী অনিয়মের কারণে ৬৫টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ভোট বর্জন করেছেন ১৩৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ধারণা করছে, প্রথম পর্বের এ নির্বাচনে ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

রাতে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

UP Poll-17

ভোট গ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোটাররা দীর্ঘ সারিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। গোলযোগের কারণে স্থগিত কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এটা খুবই সামান্য উল্লেখ করে বলা হয়, এতেই প্রমাণ হয়, নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমন দাবি করেন।

তার মতে, শতকরা ৯৯ দশমিক ৭২ ভাগ ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারচুপি ও ভোট ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সরকারের দানবীয় চরিত্র ফের উন্মোচিত হয়েছে। দলটির দাবি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তারা যে আশংকা করেছিল, তা শতভাগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় সব ইউপিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে।

নয়াপল্টনে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এমন অভিযোগ করে বলেন, এই কমিশন সরকারের জালিয়াতির ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। তারা সরকারের অশুভ ইচ্ছা ও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসি পুনর্গঠনের দাবি জানান তিনি।

UP Poll-1

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, জালভোট প্রদান ও প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ করেছে। দুপুরে জাপার একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ অভিযোগ করে।

পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা কুমিল্লার একটি ইউনিয়নে তাদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট ও কর্মীদের মারধর এবং অস্ত্রের মুখে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্বাচনে নজিরবিহীন সন্ত্রাস, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিজয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।

বরিশাল ও মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানিচাপা ইউনিয়নে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন : আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন তালুকদারের ভাগ্নে সোহেল ও শাহাদাত হোসেন এবং কর্মী কামরুল মৃধা, সোলায়মান ও বেলাল। সাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নির্বাচন শেষে সন্ধ্যায় ভোট গণনার সময় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের লোকজন কিছু জাল ভোট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুন তালুকদারের লোকজন তার প্রতিবাদ করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা কেন্দ্রের চারদিকে অবস্থান নেয়।

UP Poll-2

এতে উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। মঠবাড়িয়া থানার ওসি খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনা শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন।

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফ উপজেলায় দু’জন নিহত হয়েছেন। সাবরাং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আল হোসাইনিয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসা কেন্দ্রে ফল ঘোষণা না করেই ভোটসামগ্রী নিয়ে চলে যান নির্বাচন কর্মকর্তারা। পথে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর হোসেনের সমর্থকরা তাদের ব্যারিকেড দেন।

এ পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিজিবির গুলিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর হোসেনের ভাই আবদুল গফুর, ভাগ্নি সেফাসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে পাঠানোর সময় পথে গুলিবিদ্ধ আবদুল গফুর মারা যান। আহত অন্যদের নাম পাওয়া যায়নি।

একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে শাহ পরী দ্বীপ মাঝের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর মেম্বার প্রার্থী ছলিমুল্লাহ পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। তখন আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে বাধা দেয় এবং বলে আর গণনা হবে না। তখন মেম্বার প্রার্থীর এজেন্টের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ লোকজন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বের হয়ে উত্তেজিত জনতার ওপর গুলি করেন। এ সময় ১৫-২০ জন গুলিবিদ্ধ হন। এদের মধ্যে মো. সফিক নামে একজন নিহত হন। তিনি মাঝের পাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে।

UP Poll-3

নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জ : সন্ধ্যায় খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের আধাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের সমর্থকরা জোর করে ভোট কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রের ভেতরে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। প্রথমে পুলিশ এক রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই কাউসার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

সিরাজগঞ্জ : জেলার রায়গঞ্জে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নোনাই বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোনাই বেগম উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের ইনসাব আলীর স্ত্রী।

ঝালকাঠি, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর : সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিআন্দার গ্রামে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মারা যান আবুল কাসেম সিকদার (৬৫)। তিনি বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য।

UP Poll-5

তার ছেলে সোহাগ সিকদার জানান, তারা মেম্বার প্রার্থী চুন্নু সিকদারের সমর্থক। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সজীবের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবাকে বেদম মারধর করা হয়। তার বাবাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হামলায় আরও ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঝালকাঠি ও বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সদর ও নলছিটি উপজেলার বাকি ১৮টি ইউনিয়নেই নৌকা মার্কার পক্ষে ইচ্ছামতো সিল মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ইউনিয়নে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৪টিতে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ১০ জন আহত হয়েছেন।

রাজাপুরের ৬টি ইউনিয়নেও সহিংসতা হয়েছে। একটি কেন্দ্রে বোমা হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বরিশাল, বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া : জেলার ৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ হয়েছে। সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট এবং বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন।

বাবুগঞ্জের ৬ ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। উজিরপুরে ৭ ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন।

UP Poll-7

সৈয়দকাঠি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং অফিসারদের গালাগাল করে সিল-প্যাড ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মন্নান মৃধার লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৪-৫ জন আহত হয়েছেন।

আগৈলঝাড়ার বাগধা ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রিসাইডিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ভালুকশী কেন্দ্রে দুই মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন।

বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ : মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম শিকদারসহ তিন শতাধিক লোক বৈঠা, লাঠি নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় কেন্দ্রর পিসাইডিং অফিসার মো. হাবিবুল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালায়।

আহত পিসাইডিং অফিসার মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ব্যালট পেপার কেন্দ্রের বাইরে গেছে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে মেম্বার প্রার্থী আবুল কালামসহ তার অনুসারীরা হামলা চালায়।

এদিকে সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মিলন শেখকে পুলিশ আটক করেছে।

শরণখোলায় বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় একতরফাভাবে ভোট দেয়া হয়েছে।

UP Poll-8

কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মুন্না ব্যাপারী নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়নের চর সোনাকুড় প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় কেন্দ্রের বাইরে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী ওলিয়ার ও ইনুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় মুন্না গুলিবিদ্ধ হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কাফুরপুরা গ্রামে পৃথক দুটি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটার আঘাতে তিন নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

ভোলা, দৌলতখান, চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন : ভোলার ৩৬ ইউনিয়নের মধ্যে ৩৪টিতেই চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা সক্রিয় থাকলেও বিএনপি এবং ইসলামী আন্দোলন-বাংলাদেশ দলের প্রার্থীরা ছিলেন নিষ্ক্রিয়।

তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলা ছাড়া বাকি ৭ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ১০০ কেন্দ্রেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩শ’ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ভোলা হাসপাতালে গুরুতর আহত ২শ’ জন ভর্তি হয়েছেন। ৫ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা : দেবিদ্বার উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ৩৫ জন আহত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে শোকজ করা হয়েছে।

UP Poll-9

বগুড়া : দুপচাঁচিয়ার তালোড়া ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলেও সারিয়াকান্দির ১২টি ইউনিয়নের ৩-৪টিতে বিশৃংখলা হয়েছে। প্রকাশ্যে সিল মারতে নির্দেশ ও জাল ভোট দেয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। দুটি কেন্দ্রে প্রায় এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল।

এ ছাড়া দুর্গম চরের ৩টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

খুলনা : বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নে বোমা ও গুলিবর্ষণে একজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ মোমিন উদ্দিনকে পুলিশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা হামলাকারী সন্দেহে ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

যোগীপোল ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে মেম্বার প্রার্থীসহ দু’জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন : ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শেখ ও এক কিশোর রওশন। কিবরিয়ার পেটে ও রওশনের ডান কানে গুলির আঘাত লাগে।

বরগুনা ও আমতলী : বরগুনার ৩৪টি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল ও প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের জেলখানা ও লাকুরতলা গ্রামে ও ফুলঝুরি ইউনিয়নে সহিংসতায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।

UP Poll-14

বামনার ৪টি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পাথরঘাটার চরদোয়ানি, কালমেঘা ও কাকচিড়ায় সহিংসতায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আমতলীতে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৭ জন আহত হয়েছেন।

ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া ও জিয়ানগর : ভাণ্ডারিয়ার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ইকড়ি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসার দফায় দফায় ৪টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন। এ সময় ৫ জন আহত হয়েছেন।

মঠবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাফা ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর এজেন্টদের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান গুলিবিদ্ধ হন।

আরেকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়লে যুবলীগ নেতা কামরুল আকন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিক জমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হন।

জিয়ানগরে বালিপাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতায় ২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফে দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ৪ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সদর ইউনিয়নের দুই কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এক পুলিশ সদস্যসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

UP Poll-16

এ ছাড়া বাহারছড়া ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থীর সাদা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সিলেট : সিলেটের সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের বিএনপির পোলিং বুথে হামলা, ভাংচুর ছাড়াও পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় যুবলীগ ক্যাডাররা। আখালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবলীগ নেতা দুলাল আহমদ ও কিলার সাহেদ হামলা চালায়। এ সময় তারা জাল ভোট প্রদানের চেষ্টা চালায়। দুপুরে ওই কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

টুলটিকর ইউনিয়নের সফিক রফিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই কেন্দ্রে একযোগে শতাধিক যুবক ভোট দিতে আসে। এ সময় মিজান নামক এক যুবকের লিস্টের সঙ্গে তার ছবি ও বয়সের মিল না থাকায় তাকে আটক করা হয়।

ময়মনসিংহ ও ফুলপুর : ফুলপুর উপজেলায় দুপুরে পয়ারী ইউনিয়নের ইমাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পুলিশ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল কবিরকে গ্রেফতার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন।

ভাইটকান্দি ইউনিয়নের নাকসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল ইসলাম রিপনের সমর্থকদের ধাওয়াপালটা-ধাওয়া হয়।

সিংহেরশ্বর ইউনিয়নের বনুয়াকান্দা মাদ্রাসা কেন্দ্রে চারটি ব্যালট পেপার বই চুরি হওয়ায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়।

UP Poll-15

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছে। দুপুরে যশোদল ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও আবদুল হালিমের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে।

লতিবাবাদ ইউনিয়নের এমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় কয়েকশ’ সমর্থক নিয়ে এক মেম্বার প্রার্থী হামলা চালায়। এ সময় তারা দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যালটপেপার ছিনতাই করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নরসিংদী : পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে অবৈধ ভোট প্রদান, কর্মী বাহিনীকে হুমকি, ভাংচুরের প্রতিবাদ ও কর্মী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ডাঙ্গা ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মো. ইকবাল।

এর আগে গত সোমবার গজারিয়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান লাল মিয়া নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

শেরপুর ও নালিতাবাড়ী : নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের মরিচপুরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আধাঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

UP Poll-4

রাজনগর ইউনিয়নের দোহালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, বাঘবের ইউনিয়নের উত্তর রানীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে তন্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, শেখেরকুড়া ব্র্যাক স্কুল কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়।

বাঘবেড় ইউনিয়নের কালিনগরে সংঘর্ষে শেরপুর সদর থানার এসআই জুবায়ের খালিদসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।

গত সোমবার রাত ২টার দিকে কলসপাড় ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারে জাসদের প্রার্থী ফকরউদ্দিন নয়ন এবং তার সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী রিয়াজুল করিম মাস্টারের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে বিএনপি প্রার্থী রিয়াজুল করিম ও তার স্ত্রী শাপলা বেগমসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ও রামগতি : রামগতি উপজেলায় দুটি ও কমলনগর উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পাটারিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ চরফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৩শ’ ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আটক হয়েছেন ১০ জন।

UP Poll-11

কমলনগর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন হাজিরহাট ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ হোসেন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান, ফলকন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আবদুল ওদুদ হাওলাদার, তোবারগঞ্জ ইউনিয়নে মোসলেহ উদ্দিন ও পাটারিরহাট ইউনিয়নে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাকছুদের রহমান।

ভোট বর্জন করেছেন রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা এহেতেশামুল হক ও চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের জামায়াত প্রার্থী মহিউদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামল পাশা।

মাদারীপুর : শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর শেখপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের পক্ষে জাল ভোট ও প্রতিপক্ষ এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা : বেড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঢালারচর, চাকলা, নতুন ভারেঙ্গা, রূপপুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল করে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা : কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী স ম মোর্শেদ আলীর পক্ষের লোকজন ভোট কেন্দ্রে ৫-৬টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে একজন এবং বোমার আঘাতে ১০ জন আহত হয়েছেন।

Vote-2

চট্টগ্রাম ও রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নে ব্যাপক জাল ভোট দেয়া হয়েছে। দুপুরে সবক’টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা জোর করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয় বলে অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুল হক।

তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে সিল নিয়ে বহিরাগতরাই ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে ইচ্ছামতো সিল মেরেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একই পরিস্থিতি দেখে দুপুরে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি ফলাফল স্থগিত চেয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কছে লিখিত দেন।

৫নং ওয়ার্ডের সফি পাড়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার অলক বড়ুয়াকে প্রত্যাহার করা হয়।

যশোর ও মনিরামপুর : মনিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়নে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। ওই কেন্দ্র থেকে গত সোমবার রাতে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই ইউনিয়নের হেলাঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নৌকার এজেন্টরা ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধ্য করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ : বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কেন্দ্রের বাইরে সরকারদলীয় প্রার্থীদের সমর্থকদের লাঠিয়াল বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়েছে। সকালে সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাতবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থী হিরন মিয়া এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ সানির লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে একটি পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। কয়েকটি বুথের ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

UP Poll-10

বাঞ্ছারামপুরের ছয়টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নে ভোট বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল হাসান মোবারক।

একই অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন তারুয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাদল সাদির। ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ইদ্রিস হাসান ও বিদ্রোহী প্রার্থী বাদল সাদিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।

নোয়াখালী : সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট চলার ৩ ঘণ্টা পর বিএনপির এজেন্টদের বের করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে জাল ভোট দেন। এ সময় বিএনপির এজেন্টরা বাধা দিলে দু’গ্র“পের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ৪০ জন।

 হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মহি, বুড়ির চর, জাহাজমারা, নিঝুম দ্বীপসহ অপর কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে বাধা দেয়ায় সংঘর্ষ বাধে।

Vote-4

সুবর্ণচরে দুই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জাল ভোট দেয়ায় দুপুরে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, বাউফল, দশমিনা ও মির্জাগঞ্জ : বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নে গত সোমবার নৌকা মার্কার সমর্থক হুমায়ন মল্লিককে ঘোড়া মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহমান সরদারের সমর্থকরা কুপিয়ে জখম করে। ওই দিনই তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। হুমায়ন মল্লিক ওই ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি সোহেল মল্লিকের বাবা।

এছাড়া কালাইয়া, সূর্যমনি ও নওমালা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি ও স্বতন্ত্রসহ পাঁচ প্রার্থী ভোট বর্জন করে।

কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা সরকারি প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে ১৫-২০ জনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৫টি ব্যালট ভর্তি বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে পুকুরে ফেলে দেয়।

Jal Vote-1

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কোনো কোনো কেন্দ্রে দুপুরের আগেই সব ভোট দেয়া শেষ হয়। একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড, বরুন বাড়িয়া কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নৌকা ছাড়া কোনো প্রার্থীর এজেন্ট নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটার জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় থেকে ভোট কেন্দ্রে হামলা ও দখল শুরু হয়। ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়ে ৬ জনকে আহত করা হয়।

কাউখালী ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার এবং বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুস সালাম ও পুলিশের এসআই ফরহাদ হোসেনসহ ১০ জন আহত হয়। ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ এক ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়।

গলাচিপায় ছয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নে তিনটি কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে এতে একজন মেম্বার প্রার্থীসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়।

Jal Vote-2

দশমিনা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে ৭টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তাদের ক্যাডার বাহিনী বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং ভোট বাক্স ভাংচুর করে। ৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর বাজারে গত সোমবার রাতে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মাহফুজের ওপর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক কর্মীরা হামলা করে। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজসহ তিনজন আহত হন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল হক ও তার সহযোগীদের মারধর এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে ৩টিতে অগ্নিসংযোগ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা।

এছাড়াও উপজেলার পৃথক পৃথক কেন্দ্রে সহিংসতায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। এছাড়া এ ইউনিয়নে মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...