এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় গভর্নরের পদত্যাগ ও দুজন ডেপুটি গভর্নরের অপসারণের মধ্য দিয়ে ‘নেপথ্যের গডফাদারদের’ লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে সতর্ক করেছে বিএনপি।
অর্থ চুরির ৪০ দিন পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করায় সরকার অপরাধীদেরকে পার করে দিচ্ছে কি না এই প্রশ্নও তুলছে দলটি।
আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সরকারের আমলে এহেন ডিজিটাল চুরি বিশ্বের মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। এই টাকা হ্যাকিংয়ের কারিগর কারা সেটা চিনতে জনগণের অসুবিধা হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ যে জড়িত তা জাতির কাছে একেবারেই সুস্পষ্ট।
এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনা ঘটার ৪০ দিন পর অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত রহস্যজনক। তাহলে কী আসল অপরাধীদের পার করে দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার?
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় গভর্নরের পদত্যাগ ও দুজন ডেপুটি গভর্নরের অপসারণের মধ্য দিয়ে নেপথ্যের গডফাদারদের লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মুখপাত্র। অপকর্ম-অপকীর্তি বেশি দিন বস্তাবন্দি করে রাখা যায় না।
তিনি আরো বলেন, এই বিশ্বায়নের যুগে প্রতিদিন কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে নেপথ্যের নায়কদের আসল চেহারা মানুষের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ সামাজিক গণমাধ্যমকে ওই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ভেলকিবাজির মত বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার ঘটনা যখন দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেই ঠিক সেই মুহুর্তে তিতাস গ্যাসের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা লোপাটের মত চাঞ্চল্যকর ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সারা দেশ এখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে রাখছে যাতে পালানোর মতো অবস্থার সৃষ্টি হলে এই টাকাগুলো কাজে লাগানো যায়।

তার মতে, লুটপাটকারীদের দুশাসনের কবল থেকে দেশ মুক্ত না হলে অচিরেই দুভিক্ষের কবলে পড়বে দেশ। এই ভয়াবহ নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের একমাত্র উপায় ভোটার বিহীন সরকারের বিদায় নেয়া।
এদিকে ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অুনষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী। তিনি জানান, কাউন্সিলের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পর গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের অনুমতি পাওয়া গেছে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি অংশ অনুমতির আবেদন করছি। আমরা সেই অনুমতির অপেক্ষায় আছি।
তিনি জানান, কাউন্সিলের ডেলিডেটদের কার্ড বিতরণ শেষ পর্যায়ে। কাউন্সিলরদের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও সংস্কৃত উপকমিটির আহ্বায়ক গাজী মাজারুল আনোয়ারের নেতৃত্বে কাউন্সিলের থিম সং, গান , নাটক প্রস্তুত চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

