এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : লাহোরে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্ব একাদশের রোমাঞ্চকর জয়।
পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোর জন্য আয়োজিত ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফয়সালা তোলা থাকল শেষ ম্যাচের জন্য। প্রথম ম্যাচে ২০ রানে জিতেছিল পাকিস্তান।
শেষ ২ ওভারে জিততে বিশ্ব একাদশের চাই ৩৩ রান। পাকিস্তানের জয় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিয়তি স্ক্রিপ্ট লিখেছিল অন্যভাবে। শেষ দুই ওভারে ‘ঝড়’ তুললেন থিসারা পেরেরা।
কিন্তু একেবারে শেষ ২ বলে চাই ৬ রান। বোলার রুম্মান রাইসের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। সাজিয়ে নিলেন ফিল্ডিং। বলটির আগে অনেকটা সময় নিল পাকিস্তান। কিন্তু এত কিছুর পর রাইস করলেন ফুলটস। উড়িয়ে মারলেন থিসারা পেরেরা, বল হারিয়ে গেল যেন লাহোরের রাতের আকাশে। ছক্কা।
থিসারা পেরেরার ওই ‘ঝোড়ো’ ইনিংসের সুবাদে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা ফেরায় তামিম ইকবাল-ডু প্লেসিসের বিশ্ব একাদশ।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বিশ্ব একাদশের হয়ে শুরুতে ঝড় তোলেন তামিম ইকবাল। দারুণ শুরুর পর ইনিংস জুড়ে দলকে টানেন হাশিম আমলা। আর শেষ দিকে থিসারা পেরেরার টর্নেডো ইনিংস। পাকিস্তানের ১৭৪ রান বিশ্ব একাদশ পেরিয়ে যায় ১ বল বাকি থাকতে।
তামিম ও আমলা বিশ্ব একাদশকে এনে দিয়েছিলেন উড়ন্ত সূচনা। রান দেওয়ায় বরাবরই কৃপণ ইমাদ ওয়াসিমের এক ওভারে এক ছক্কা, দুই চার মারেন তামিম। মনে হচ্ছিলো বড় কিছুর দিকে এগোচ্ছেন।
বাংলাদেশের ওপেনার ফিরলেন অসাধারণ এক ক্যাচের শিকার হয়ে। সোহেল খানের লেগ স্টাম্পের বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন ব্যাট। বুলেট গতির বলটি শর্ট ফাইন লেগে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় হাতে জমান শোয়েব মালিক।
তিনে নেমে টিম পেইন ব্যর্থ আবারও। অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিও পারেননি বড় কিছু করতে। আমলা খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান রেট বেড়েই চলছিল। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান। সেই সমীকরণ মেলালেন পেরেরা।
শেষ ২ ওভারে বিশ্ব একাদশের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। আমলা তখন অনেকটাই ক্লান্ত। শেষ চার ওভারে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি। তবে পেরেরাকে স্ট্রাইক দিয়ে গেছেন। যা করার, এই লঙ্কান অলরাউন্ডারই করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব একাদশকে ২০ রানে পরাজিত করে পাকিস্তান। আগামী শুক্রবার একই মাঠে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি মাঠে গড়াবে।
১৯তম ওভারে ২০ রান নিয়ে ব্যবধান ৬ বলে ১৩ করে ফেলেন থিসারা। রুম্মান রইসের করা শেষ ওভারে জিততে দরকার ছিল ১৩ রান; যেটি নেমে আসে ২ বলে ৬ রানে। পঞ্চম বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বল সীমানাছাড়া করে বিশ্ব একাদশকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন শ্রীলঙ্কান তারকা থিসারা।
থিসারা পেরেরা ১৯ বলে পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। চতুর্থ উইকেটে তার সঙ্গে ৩৫ বলে ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন আমলা ৫৫ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে করেন ৭২ রান। তামিম ১৯ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ২৩ রানের ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া ডু প্লেসিস ১৪ বলে ২০ এবং টিম পাইন করেন ১২ বলে ১০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ইমাদ ওয়াসিম, সোহেল খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ।
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসটি এগিয়েছে আগের দিনের মতো করেই। শুরুতে ১৩ বলে ২১ করেন ফখর জামান। দ্বিতীয় উইকেটে আবার আহমেদ শেহজাদ ও বাবর আজমের দারুণ জুটি।
৩৪ বলে ৪৩ রান করেন শেহজাদ। আগের দিন ৮৬ রান করা বাবর এদিন করেন ৩৮ বলে ৪৫।
যথারীতি সেই ভিত্তিকে কাজে লাগান শোয়েব মালিক। ৩ ছক্কায় ২৩ বলে করেন ৩৯ রান। আগের দিনের চেয়ে খানিক মন্থর উইকেটে ১৭৪ রান কম ছিল না।
বিশ্ব একাদশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন স্যামুয়েল বদ্রি ও থিসারা পেরেরা। ইমরান তাহির ও বেন কাটিং নেন একটি করে উইকেট। পরে ব্যাট হাতেই খুনে ইনিংসে দারুণ জয়। জিইয়ে থাকল সিরিজের উত্তেজনা। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী শুক্রবার।
পাকিস্তানের একাদশ : আহমেদ শেহজাদ, ফখর জামান, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ নওয়াজ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ নওয়াজ, উসমান সিনওয়ারি, সোহেল খান ও রুম্মান রইস।
বিশ্ব একাদশের একাদশ : তামিম ইকবাল, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস, থিসারা পেরেরা, টিম পাইন, ডেভিড মিলার, বেন কাটিং, স্যামুয়েল বদ্রি, ইমরান তাহির, মরনে মরকেল ও পল কলিনউড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান : ২০ ওভারে ১৭৪/৬ (ফখর ২১, শেহজাদ ৪৩, বাবর ৪৫, মালিক ৩৯, ইমাদ ১৫, সরফরাজ ০, সোহেল ১*; মর্কেল ১/২০, কাটিং ১/৫২, বদ্রি ২/৩১, কলিংউড ০/১৮, থিসারা ২/২৩, তাহির ১/২৯)।
বিশ্ব একাদশ : ১৯.৫ ওভারে ১৭৫/৩ (তামিম ২৩, আমলা ৭২* পেইন ১০, দু প্লেসি ২০, থিসারা ৪৭*; ইমাদ ১/২৭, সোহেল ১/৪৪, উসমান ০/১০, রাইস ০/৪২, নওয়াজ ১/২৫, শাদাব ০/৩২)।
ফল : বিশ্ব একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ : থিসারা পেরেরা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক




