এমএনএ বিশেষ প্রতিবেদন : দালাল চক্র নির্মূলে কর্তৃপক্ষ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে, এমন দাবি করলেও রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত অভিবাসন ও পাসপোর্ট অফিসে এখনো সক্রিয় রয়েছেন দালালরা। পাসাপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তারা গ্রাহকদের ঠিকভাবে সেবা দেন না এবং এর ফলে গ্রাহকরা দালাল ধরতে বাধ্য হন।
অধিদপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা দালালদের থেকে এই টাকার ভাগও নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কিছু আনসার ও পুলিশ সদস্যও এই টাকার ভাগ নেন।
সরেজমিনে আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসের সামনে ঘুরে দেখা মিলেছে দালাল চক্রের। নূরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে দেখা যায় পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদের ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার অফার দিতে। তাদের (দালাল) সহায়তা ছাড়া কেউই সঠিক সময়ে পাসপোর্ট পান না বলেও দাবি করেন তিনি।
পাসপোর্ট আবেদনকারী সেজে নূরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এখন আমরা ঢাকা থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজটি করতে পারি না। তাই আপনি ময়মনসিংহকে স্থায়ী ঠিকানা করেন। আর এতে করে আপনার পাসপোর্টটি খুব সহজে করিয়ে দেওয়া যাবে।
ময়মনসিংহ যেতে সময় নষ্ট হবে এমন কথা শোনার পর নূরুজ্জামান বলেন, আপনাকে ময়মনসিংহে যেতে শুধুমাত্র একদিন সময় খরচ করতে হবে। এরপর আপনার পাসপোর্ট হাতে তুলে দেওয়ার সমস্ত দাযিত্ব আমার।
কেন পুলিশ ভেরিফিকেশন ঢাকা থেকে করা সম্ভব নয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকাতে ভেরিফিকেশনের জন্য দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠিনভাবে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। এই কারণে আমরা তাদের সঙ্গে ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না।
এরমধ্যেও প্রতিদিন তিনি কমপক্ষে ১৫ জনের পাসপোর্ট করানোর চুক্তি নেন বলে জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় এক হাজার মানুষের পাসপোর্ট করিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পাসপোর্ট করার জন্য আগারগাঁও অফিসের সামনে থাকা কিছু লোক জানান, এখানে আসার পর প্রথমেই অনেকে ঝামেলাবিহীনভাবে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার অফার দিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেন। পাসপোর্ট করতে আসা অনেকে তাদের ফাঁদে পা ও দেন। অনেকে আবার প্রতারিতও হন।
পাসপোর্ট আবেদন করতে আসা একজন অভিযোগ করে বলেন, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ইচ্ছা করেই অনেক দেরিতে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দেন যাতে করে পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা দালালদের সহায়তা নিতে বাধ্য হন।
তবে অভিবাসন ও পাসপোর্ট দপ্তরের নিয়মানুযায়ী, জরুরি আবেদনকারীদের সাত দিনের মধ্যে এবং সাধারণদের ক্ষেত্রে ২১ দিনে সরবারহ করা হয়।
পাসপোর্ট করতে গিয়ে প্রতারণা ও হয়রানি হওয়ার বিষয়ে মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রজেক্টের পরিচালক সাইদুর রহমান খান বলেন, পাসপোর্ট আবেদনকারীদের কাছে খুব সহজেই পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়া আরও কিছু স্থানে পাসপোর্ট আবেদনপত্র গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

