এমএনএ রিপোর্ট : দেশের উত্তরাঞ্চলের ২৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ৫৭ লাখ ১৯ হাজার মানুষ এবং এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ জন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ৩১ কি.মি. রাস্তা সম্পূর্ণ ও ২ হাজার ৭৮৯ কিমি রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৫ কি.মি. বাঁধ সম্পূর্ণ ও ২৮৯ কি.মি. আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ লাখ ৩১ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি পানিতে ডুবে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এছাড়া বন্যা কবলিত ২৭ জেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৭ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর ও রাঙামাটি জেলার ১২২টি উপজেলা ও ৩৮টি পৌরসভা এখন বন্যায় প্লাবিত।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। এ জেলার ১৩টি উপজেলার সবগুলোয় বন্যাকবলিত।
আজ শনিবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব শাহ কামাল জানান, প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য ১ হাজার ৫৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। এগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার।
তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে ৯ আগস্ট এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ। আর ১৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।
দেশের বন্যা উপদ্রুত ২১ জেলায় ১ হাজার ৮২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও পানি শোধনের বড়ি মজুত আছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

