Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে যাবে কী যাবে না?

বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে যাবে কী যাবে না?

এমএনএ রিপোর্ট : দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে যাবে না- এ কথা বেশ জোর দিয়ে বললেও ‘চূড়ান্ত’ বা ‘শেষ কথা’ বলার সময় এখনও আসেনি। অবশ্য দলের চেয়ারপারসন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার আগে থেকে সংসদ ভেঙে দেওয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলেও ঘোষণা দিয়ে আসছে তারা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর। ততদিন তিনটি দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারক মহল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আপাতত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বর্তমান অবস্থান ব্যক্ত করছে বিএনপি। নির্বাচনে অংশ নেবে বলেই দলের চেয়ারপারসন কারাগারে গেলেও কোনো সংঘাত ও সহিংস কর্মসূচিতে জড়িয়ে নেতাকর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করার কৌশল নিয়েছে দলটি।
অবশ্য বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, দাবি আদায়ে আন্দোলনের নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগকে এবার খালি মাঠে গোল না দেওয়ারও চেষ্টা করবে দলটি। সে ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে না দিলেও নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি। বর্তমানে হার্ডলাইনে থাকলেও শেষ মূহূর্তে খালেদা জিয়ার পরামর্শেই নির্বাচনেও যেতে পারে দলটি। বিগত নির্বাচন বর্জনের মতো আর ‘ভুল’ করতে চায় না বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে না। এমনকি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণই হতে দেবে না। একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় এখনও আসেনি। এ মুহূর্তে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়টি। অবশ্য এর আগেও পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন ঘটতে পারে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকারও পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে আশা করছেন বিএনপির হাইকমান্ড। পাশাপাশি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের কাছ থেকেও সরকারের ওপর চাপ আসবে বলে আশাবাদী তারা। দেশি-বিদেশিদের চাপের মুখে এবার বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং দলের প্রধানকে নির্বাচনের বাইরে রাখা সরকারের জন্য সহজ নাও হতে পারে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি এখন দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে। তাছাড়া নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। নির্বাচনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে- তা সময়ই বলে দেবে। কাজেই বিএনপির সিদ্ধান্ত জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
সূত্রমতে, বর্তমান শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশে এবং বিদেশিদের কাছে প্রশংসা অর্জন করছে। ঘরে ঢুকে যাওয়া দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে উজ্জীবিত করতে পেরেছে তারা। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মুহূর্তে বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সফল বলেই দাবি করছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা।
বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এবার শুধু বিএনপি নেতাদের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না। এবার বর্জনের আগে বিভিন্ন স্তরের নেতা, দল-সমর্থিত বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুভাকাঙ্ক্ষী ও জাতিসংঘের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা। ক্ষমতায় যেতে না পারলেও সংসদে বিরোধী দল হিসেবে থেকে শক্তি সঞ্চয় করার বিষয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ করেই সবাই পরামর্শ দেবেন- এমনটি প্রত্যাশা দলটির।
যোগাযোগ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। দলীয় প্রধানকে কারাগারে বা নির্বাচনের বাইরে রেখে তার দল নির্বাচনে যেতে পারে না। একইসঙ্গে নির্বাচনের আগে বর্তমান ‘অবৈধ’ সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এ মুহূর্তে এটাই বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান।
বিএনপি নেতাদের মতে, আগামী নির্বাচনের এখনও ১০ মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন হবে। সরকারের বর্তমান অবস্থারও পরিবর্তন হবে। একতরফা নির্বাচন করার সুযোগ পাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই। নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এখন তারা কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করেছে। কোনো সংঘাত ও সহিংস কর্মসূচিতে জড়াচ্ছে না। কঠোর কোনো কর্মসূচি দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে ক্ষতি করতে চাচ্ছে না।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...