Don't Miss
Home / অর্থনীতি / বেড়েই চলছে পেঁয়াজের ঝাঁজ : তরকারিতে কিছুটা কম

বেড়েই চলছে পেঁয়াজের ঝাঁজ : তরকারিতে কিছুটা কম

তুষার আহমেদ : সপ্তাহ খানেক কিছুটা দাম কমে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় নামলেও আবারও গত দু’দিন থেকে বেড়েই চলছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। বাজারে যেনো আগুন লেগেছে।মাত্র দুদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে এখন ১২৫ টাকা কেজি দাঁড়িয়েছে।অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এক বছরের ব্যবধানে ৩৫ টাকার পেঁয়াজ এখন মাত্র ১২৫ টাকা! পেঁয়াজের এমন নিয়ন্ত্রণহীন দামে ক্রেতা সাধারণের এখন ত্রাহি মধুসুধন অবস্থা।
দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই। এ ছাড়া কিছুদিন পরই বাজারে আসছে নতুন পেঁয়াজ। এরপরও বাজারে হু হু করে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। দাম বাড়তে বাড়তে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের কেজি এখন সেঞ্চুরি করেছে। যেখানে গত বছর এ সময়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ও মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। যেখানে এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। এ ছাড়া গত বছর এই সময়ে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকায়।
বাজারে শীতকালীন সবজি ও মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কম দামে মিলছে এসব পণ্য। একই কারণে মাংস, মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে।
এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এসেছে নতুন পেঁয়াজের কলি। এখন এই পেঁয়াজের কলি প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টিসিবির বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের এ সময়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ছিল ৩৫-৪০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা। যথাক্রমে এখন তা ১২০-১২৫ টাকা ও ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শতাংশের হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত।
এদিকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে এবং ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমদানি খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি সময়ে টানা বৃষ্টিতে কিছু খেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা বিলম্বিত হচ্ছে। এসব কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের একটি মুদি দোকানে পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে দেশী পেঁয়াজ ১০০ টাকায় আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৮৫ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশী পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। প্রথমে দাম বেড়ে ১১০ টাকা হয়। এরপর বাড়তে বাড়তে এখন ১২৫ টাকা হয়েছে।
রাজধানীর শ্যাম বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আলম বলেন, দুই মাস আগেও ভারত থেকে প্রতিটন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল আড়াইশ’ ডলারের মতো। দফায় দফায় বেড়ে তা গত সপ্তাহে ৮৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পেঁয়াজের আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, মজুদ পেঁয়াজ প্রায় শেষের পথে। নতুন পেঁয়াজও বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে। কিছু দিন আগে টানা বৃষ্টি হয়েছে, এতেও অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে দাম বেড়েছে।
খিলগাঁও তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী সুমন বলেন, পাইকাররা জানাচ্ছেন আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। পুরাতন দেশি পেঁয়াজও খুব বেশি মজুদ নেই। বৃষ্টিতে বেশকিছু খেত নষ্ট হওয়ায় এখনো বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসেনি। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমেবে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মাকের্টে পেঁয়াজ কিনতে আসা আতিকুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগে এক কেজি দেশী পেঁয়াজ কিনেছিলাম ১০০ টাকা দিয়ে। ওই সময় ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন কিছুদিন পরে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন দাম আরও কমবে। কিন্তু এখন বাজারে এসে দেখি দাম উল্টো বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখন এক কেজি দেশী পেঁয়াজ ২৫ টাকা বেশি দিয়ে ১২৫ টাকা আর বিদেশী পেঁয়াজ ১৫ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। বছরে ২০ লাখ টন চাহিদা বিপরীতে দেশেই ১০ লাখ টনের উপরে উৎপাদন হয়। বাকি ১০ লাখ টনের মতো আমদানি করতে হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭ লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর বিপরীতে সেটেলমেন্ট হয়েছে ৮ লাখ ৬ হাজার টন। অর্থাৎ চলতি বছরে ইতোমধ্যে আমদানি করা ৮ লাখ ৬ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া বর্তমানে ৫ লাখ টনের মতো দেশি পেঁয়াজ মজুদ আছে। সুতরাং সাম্প্রতিক আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে অথবা নতুন পেঁয়াজ আসা বিলম্বিত হওয়ার কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ছে এমন যুক্তি সঠিক নয়।
দেশি পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির বিষয়ে মো. আবদুল মমিন মণ্ডল বলেন, ‘পাবনার মোকামে তেমন পেঁয়াজ নেই। নতুন পেঁয়াজ আসতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে শেষ মৌসুমে যেমন খুশি তেমন দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, গত বুধবার পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা ছিল; গতকাল শুক্রবার তা ১১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। মোকাম থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও আড়তে অনেক ক্রেতা রয়েছেন। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় দাম দিন দিন বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আরও দু’এক সপ্তাহ পরে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। নতুন পেঁয়াজ আসতে দেরি হলে দাম আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা। তবে এবার বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ আবাদ ব্যাহত হয়েছে। অন্যান্য বছরে এ সময়ে বাজারে মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যায়।
বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধিতে এখন আর তেমন চড়া দাম নেই। আগের সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজি ৪০-৫০ টাকা ছিল। এখন তা ৩০-৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৩০ টাকা হয়েছে। কাঁচা টমেটো মিলছে ২০ টাকায়। ৩০ টাকা দরের মুলা এখন ২০ টাকা। তবে পাকা টমেটো এখনও ১২০-১৩০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ফুলকপি ও বাধাকপি ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মাছ ও সবজির দাম কম থাকায় মাংস ও ডিমের চাহিদা কমেছে। এতে দাম কমে প্রতি ডজন ডিম এখন ৭০ টাকায় মিলছে। প্রতি হালি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৭ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে এখন ১১০-১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর বাজারে গরুর মাংসের দামও কমেছে। প্রতি কেজি ৫০০ টাকা থেকে কমে এখন ৪৫০-৪৭০ টাকায় বিক্রি হয়। সুপারশপও দাম কমিয়ে অফার দিচ্ছে। ‘স্বপ্ন সুপারশপে’ দুই কেজি কিনলে প্রতি কেজি ৪৪৯ টাকা দরে বিক্রির অফার দিয়েছে। খাসির মাংস মিলছে ৭০০ টাকা কেজিতে।
x

Check Also

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে ১৮ এপ্রিল, আজ রাতে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি সৌদি সরকারের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ ...